সংস্কারে বছর না পেরুতেই ডুমুরিয়ার কৈয়া শরাফপুর সড়ক বেহাল


সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া:
অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলায় কৈয়া-শরাফপুর জিসি সড়কটি বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দশ চাকার বালিবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে পিচের গন্ধ না যেতেই সড়কে এ ভগ্নদশা হয়েেেছ বলে স্থানীয়দেও অভিযোগ। বর্তমান সড়ক দিয়ে পথচারী থেকে শুরু করে ছোট-খাটো কোনো যানবাহনও চলার উপযোগি নেই। চরম জনভোগান্তিতে পড়েছে দক্ষিন ডুমুরিয়াবাসী।
খুলনার ডুমুরিয়ায় ২০১২-১৩ অর্থ বছরে জাইকা প্রজেক্টের আওতায় কৈয়া টু শরাফপুর ভায়া বানিয়াখালী পর্যন্ত পৌনে ১৭ কিলোমিটার জিসি সড়কটি কার্পেটিংয়ে উন্নিত হয়। সেই থেকে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল বিশেষ করে শরাফপুর ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের মানুষ সহজে শহরে যাতায়াত করে। কিন্তু কৈয়া থেকে টিয়াবুনিয়া পর্যন্ত (সাড়ে ৩ কি.মি.) সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পুনরায় রাস্তার এই অংশটুকু ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মেইনটেনন্সের কাজ বাস্তবায়ন করে এলজিইডি। কিন্তু পিচের গন্ধ যেতে না যেতেই সড়কটি বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়। টিয়াবুনিয়া এলাকার কতিপয় বালি ব্যবসায়ী ওই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ব্যবহার করায় এবং রোডের লোড ক্যাপাসিটির সাড়ে ৪গুণ লোড নিয়ে ডাম্পার চলাচলের কারণে সড়কে এ ভগ্নদশা। এমন পরিস্থিতিতে মহাবিপাকে স্থানীয় একটি জুট মিলস কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে হযরত শাহ্চন্দ্রপুরি জুট মিলের ব্যবস্থাপক এসএম আফতাব উদ্দিন বলেন, সড়ক দিয়ে বালিবাহী ১০ চাকার ডাম্পার চলার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পাটের গাড়ি চলতে পারছে না। রাস্তার কোনো উন্নতি না হলে মিল চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।
এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুত কুমার দাশ বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত কৈয়া থেকে টিয়াবুনিয়া পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মেইনটেনেন্স কাজ করা হয়। এরমধ্যে বালুমহল থেকে কৈয়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে। রোডের ধারণ ক্ষমতা ১০ টন। সেখানে বালিবাহী যে ডাম্পারগুলো চলে এর প্রত্যেকটিতে ৪০-৪৫ টন ওজন। যার কারণে অতিদ্রুত রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে। মেরামত বিষয় তিনি বলেন, মেইনটেনেন্স রাস্তার ডিজাইন লাইফ নূন্যতম তিন বছর। এখনো এক বছর বাকি। তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার সাথে আছে বেশ কয়েকটি বালুমহল। যার কারণে সেই ভাবে ডিজাইন করে রাস্তাটি করতে হবে। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
১৭ আগস্ট সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম ও সহকারী কমিশনার ডা. সঞ্জীব দাশ রাস্তাটি পরিদর্শন করেন। এ সময়ে ইউএনও বলেন, ওভারলোডের কারণে রাস্তার এমন দশা হয়েছে। ওই সড়কদিয়ে ১০ চাকার কোনো গাড়ি বা ১০ টনের বেশি লোড সম্পন্ন গাড়ি চলতে পারবে না এমন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, অতিজনগুরুত্বপূর্ণ কৈয়া টু শরাফপুর রাস্তাটি কতিপয় বালু ব্যবসায়ীদের কারণে বেহাল অবস্থা হয়েছে। তারা ১০ চাকার ডাম্পার ওভারলোড দিয়ে এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। যার কারণে রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি জরুরীভাবে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলেছি।