চৌগাছায় সাইনবোর্ড নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ


চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছা সদর ইউনিয়নের একটি সাইনবোর্ডকে ঘিরে ক্ষুব্ধ হয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে কড়ইতলা বাজারের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘আমহমদ নগর’ । সাইনবোর্ডের নিচে লেখা আছে ‘বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন’। প্রকৃতপক্ষে উপজেলা প্রশাসন নাম বদল করেছে কি না তা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো প্রশ্ন না থাকলেও নতুন নাম নিয়ে রয়েছে ক্ষোভ। কেননা যার নামে নামকরণ করে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে সেই আহমদ আলী ছিলেন পিস কমিটির সদস্য। তার ছেলে মুজাহিদ আলীও এলাকায় চুন্টে রাজাকার হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার রাজাকারের পিতা ও পিস কমিটির সদস্যের নামে বাজারের নামকরণের প্রতিবাদে চৌগাছা শহরে মানববন্ধন হয়। বুধবার সকালে সকালে মুক্তিযোদ্ধারা ওই বাজারটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা সাইনবোর্ডে ‘আহমদ নগর’ ‘বাস্তবায়নেঃ উপজেলা প্রশাসন’ লেখা দেখে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. নুর হোসেন বলেন, আহমদ আলী ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী একজন মুসলিম লীগের লোক। ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পিস কমিটির সদস্য। তার ছেলে এম মুজাহিদ আলী ওরফে চুন্টে ছিল একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার। উপজেলার রাজাকারের তালিকায় সে ৮ নম্বরে আছে। খুলনায় বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রাজাকার মুজাহিদ স্বাধীনতার পরে (সম্ভবত ১৯৭২ সাল) জেল খেটেছেন বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন মুজাহিদ আলী একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতকৃত তালিকায় ৮ নম্বরে নাম থাকা এই রাজাকারের পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী। তার নামে কিভাবে বাজারের নামকরণ হলো সেটা আমার বুঝে আসে না।
মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) লিডার মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন বলেন মুজাহিদ আমার (ক্লাসফ্রেন্ড) স্কুল বন্ধু। সে ছিল ট্রেনিং প্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার। তার পিতা আহমদ আলী ছিলেন মুসলিমলীগের সদস্য। সে সময় মুসলিমলীগের সদস্যরা প্রায় সকলেই পিস কমিটির সদস্য ছিলেন।
রণাঙ্গনের আরো একজন মুক্তিযোদ্ধা সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধ ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন মুজাহিদ আমাদের তালিকায় একজন সশস্ত্র রাজাকার। তার পরিবারের কোনো লোক মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত নয়। জিয়াউর রহমান যখন ছাত্রদলের কমিটি করেন তখন মুজাহিদ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তো। মুজাহিদ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল।
তার বাবা আহম্মদ আলীর সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদের গভীর আতাত ছিল। আজ পর্যন্ত তাদের পরিবারের কোনো লোক স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।
তিনি বলেন স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও চৌগাছাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধার নামে কোনো সড়ক বা বাজার বা কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকলেও একজন রাজাকারের পিতা যে কিনা নিজেই স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন তার নামে বাজারের নামকরণ হয়েছে। সেখানে আবার লেখা হয়েছে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন। আসলে উপজেলা প্রশাসন কি বিষয়টা জানে? নাকি নাম ভাঙিয়েছে সেটাও দেখার বিষয়।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুস সালাম চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হকের সাথে কথা বলে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বলেও নিশ্চিত করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের এই নেতা।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি। এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে যা জানতে পেরেছি তাতে অফিসিয়ালি এমন কোনো দলিল আমি পাইনি। তিনি আরও বলেন সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোনো কিছুর নামকরণ করার এখতিয়ার কারো নেই। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিভাবে উপজেলা প্রশাসনের কথা সাইন বোর্ডে লেখা হলো সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।