ডাক্তারের নাম সোহেল রানা, ১৩ দিনে তিন প্রসূতির মৃত্যু


অসীম মোদক, মহেশপুর
ডাক্তারের নাম সোহেল রানা। মহেশপুরের নাম স্বর্বস্ব হাসপাতালগুলোর ভরসা তিনি। প্রতিদিনই কোন না কোনো ক্লিনিকে অপারেশন করছেন তিনি। এলাকাবাসির কাছে ‘মাতাল ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত সোহেল রানার কাছে রোগীরা মোটেও নিরাপদ না। গত ১৩ দিনে তার অপারেশন টেবিলে মারা গেছেন তিন প্রসূতি।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে ক্লিনিক। নামে ক্লিনিক হলেও নেই কোন ডাক্তার, নার্স, আয়া। ভাড়া করা ডাক্তার দিয়ে চলে ক্লিনিক ব্যবসা। যেমন ক্লিনিক তেমনই ডাক্তার ভাড়া খাটে। ভালো চিকিৎসকরা ওসব হাসপাতালে যান না। যার কারণে অপারেশন টেবিলে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ৬ আগস্ট উপজেলার নেপা মোড়ের একতা ক্লিনিকের সেজিয়া গ্রামের নাঈম হাসানের স্ত্রী লাবনী আক্তার (১৮), ৯ আগস্ট নেপা মোড়ের মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালে জিনজিরা পাড়ার শিকতার আলীর স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৩০) ও সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট পাতিবিলা মোড়ের শুভ ক্লিনিক এন্ড প্রাইভেট হাসপাতালে হাবাশপুর স্কুল পাড়ার সামাউল ইসলামের স্ত্রী রিনা খাতুন (৩২) সিজার অপারেশন করার সময় অপারেশনের টেবিলেই মৃত্যু হয়। তিনটি সিজার অপারেশনই করেন ভাড়াটে ডাক্তার সোহেল রানা।
নেপা ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম মৃধা জানান, এলাকার কোনো ক্লিনিকে ডাক্তার নেই। নেই কোন নার্স। তাহলে একটা ক্লিনিক কিভাবে চলে। স্বাস্থ্য বিভাগ কি ওদের ক্লিনিকের সাইবোর্ড ঝুলিয়ে মানুষ মারার লাইন্সেস দিয়েছে?
ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই প্রতিটা ক্লিনিক মালিকদেরকে বলে দিয়েছিলাম নেশাগ্রস্ত ডাক্তার সোহেল রানাকে দিকে যদি কেউ আপারেশন (ওটি) করান তাহলে এর দায়ভার সমিতি নেবে না। সব দায়ভার ক্লিনিক মালিককেই নিতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমানআরা মহেশপুরের কোন ক্লিনিকে ডাক্তার ও নার্স নেই স্বীকার করে জানান, আমি খুব তাড়াতাড়ি মহেশপুরের সব ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। তিনি আরো জানান,আমি নিজে ডাক্তার সোহেল রানাকে আমার এলাকায় কোনো ধরণের অপারেশর করা থেকে বিরত থাকতে বলেছি। তারপরও সে গোপনে কিভাবে করলো! তাছাড়া আমি এলাকার সকল ক্লিনিক মালিককে আগেই বলে দিয়েছিলাম আপনারা ডাক্তার সোহেল রানাকে দিয়ে কোনো ধরণের অপারেশন করাবেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল জানান, আমার এলাকায় কাগজপত্র বিহীন কোনো ক্লিনিক আমি চলতে দেবো না। তাছাড়া প্রতিটা ক্লিনিকে সর্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স ও অভিজ্ঞ আয়া থাকা লাগবে। তা না হলে সে ক্লিনিক বন্ধ।
ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুল আজম খান চঞ্চল জানান, যেখানে কোন ভালো ডাক্তার বা নার্স নেই সে সব ক্লিনিক গুলো কি ভাবে চলছে? আজ যদি ক্লিনিক গুলোতে ভালো ডাক্তার-নার্স থাকতো তাহলে পর পর তিনজন প্রসূতি এ ভাবে মারা যেতো না।