২৪০০ টাকা মণ পাট: মহাখুশি নড়াইলের কৃষকেরা

ফরহাদ খান, নড়াইল:
বোরো ধানের পর পাটেও ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা। নড়াইলে পাটের আবাদও হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি । তবে আগাম বর্ষার কারণে ফলনে কিছুটা বিপর্যয় হয়েছে। তবুও ভালো দাম পেয়ে মহাখুশি কৃষকেরা।
বিভিন্ন হাটবাজারে যেয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিমণ নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৪০০টাকায়। অথচ মওসুমের শুরুতে মণপ্রতি বিক্রি হয়েছিল ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, আপাতত পাটের দামে কোনো কমতি নেই। এই অবস্থা চলমান থাকলে পাট বিক্রি করে কৃষকেরা লাভবান হবেন। পাট চাষাবাদসহ কৃষি কাজে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে।
নড়াইল সদরের ভান্ডালিপাড়ার মোহাম্মদ সলেমান ও আসলাম হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এ বছর আগাম বর্ষা হওয়ায় পাট বড় হয়নি। বীজবপনের পর থেকে চারা বড় হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় ফলন বিপর্যয় হয়েছে। তবে মওসুমের শুরু থেকেই পাটের ভালো দাম পেয়ে খুশি সবাই। শেষ পর্যন্ত পাটের উচ্চমূল্য থাকলে তাদের কোনো লোকসান হবে না।
লোহাগড়া উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, গেল বোরো মওসুমে কৃষকেরা ধানের ভালো দাম পেয়ে কৃষিকাজে উৎসাহ পেয়েছেন। অন্যবারের চেয়ে মণপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে ধান বিক্রি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের পাটচাষে আগ্রহ বেড়েছে। আমাদের দাবি, হঠাৎ করে যেন পাটের দরপতন না ঘটে; সেদিকে সরকারের সুদৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ, এ বছর সরকারি অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। যদিও নড়াইলের হাটবাজারগুলোতে সেই প্রভাব নেই। পাটের ভালো দাম পেয়ে আমরা খুশি সবাই।
এদিকে লোহাগড়ার এড়েন্দা হাটের পাটব্যবসায়ী রাসেল শেখ জানান, এ বছর শুরুতে প্রতিমণ পাট ১৮০০ থেকে ২০০০টাকা বিক্রি হলেও এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়ে তা ২৪০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হাটেই পাটের দাম বাড়তি রয়েছে। আপাতত দামের কোনো কমতি নেই। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) লোহাগড়ার শিয়েরবর এবং গত মঙ্গলবার এড়েন্দা হাটে এই দামে পাট বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। গত বছর (২০১৯) শেষদিকে পাটের দাম নেমে মণপ্রতি ২০০০টাকা বিক্রি হয়েছিল। প্রথম দিকে দাম ছিল ১৮০০ থেকে ২৩০০ টাকার মধ্যে। অল্প কয়েকদিন ২৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এ বছর অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সবমিলে গড়ে এ বছর পাটের দাম ভালো যাচ্ছে।
নড়াইল সদরের তুলারামপুর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতরা জানান, এখানে সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার হাট বসে। প্রতিহাটেই পাটের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। ভালো মানের পাট মণপ্রতি ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কৃষক সমবায় সমিতি সদর উপজেলা সভাপতি আলী হায়দার লিটু জানান, তিন একর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন তিনি। ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পেরে এলাকার কৃষকেরা খুশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অনুজ কুমার বিশ্বাস বলেন, পাটচাষে নড়াইল একটি সমৃদ্ধশালী জেলা। এখানে প্রতিবছরই পর্যাপ্ত পাটচাষ হয়ে থাকে। এ বছরও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষাবাদ বেশি হয়েছে। ২১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে। আশা করছি শেষ পর্যন্ত কৃষকেরা ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারবেন।