অতিবৃষ্টি হলেই যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল পানিতে একাকার, দুর্ভোগ


মিরাজুল কবীর টিটো:
অতিবৃষ্টি হলেই যশোর শহরের কয়েকস্থানে রাস্তাসহ আবাসিক এলাকায় পানি জমে যায়। আর ভারি বর্ষণ হলে তো কথা নেই। পানিতে একাকার হয়ে যায় নিম্নাঞ্চল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পৌর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ সব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ ও রাস্তায় গর্ত থাকায় পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকায় মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। শনিবার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমনটি দেখা গেছে। পৌর এলাকায় কয়েকজন পরিচ্ছন্ন কর্মী পানি সরাতে কাজও শুরু করে বলে জানা গেছে।
যশোরের বিমানবন্দর সংলগ্ন আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, লঘু চাপের কারনে দুইতিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। আরো দুইদিন এটা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ভারি বর্ষণের কারণে যশোর পৌর এলাকায় অধিকাংশ জায়গায় অনেক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। খড়কির শাহ আব্দুল করিম সড়কের দক্ষিণ পাশে অনেক বাড়ির মধ্যেও পানি ঢুকে গেছে। আশ্রম রোড, কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা,সিএমবি রোড, কবরস্থান পাড়া, বেজপাড়া গয়ারাম রোড, বেজপাড়া কবরস্থান রোড, বিশ^াসপাড়া,বারেকপট্টি,মাঠপাড়া, শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া, চোপদারপাড়া পানির ট্যাংকি এলাকা,আনসার ক্যাম্প বিলপাড়া,চোপদারপাড়া কলাবাগান,বারান্দিপাড়া কদমতলা, বারান্দিপাড়ার মাঠপাড়া, শংকরপুর, আশ্রম রোড, পিটারশন রোডেও পানিতে একাকার। এলাকাবাসির অভিযোগ তাদের এলাকায় রাস্তা সংস্কার না করার ফলে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ভারি বর্ষণের কারণে পানি জমে গেছে। তখন নোংরা পানির মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিমাসে ড্রেন পরিষ্কার করা বাবদ পৌরসভায় ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়। অথচ পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঠিকমত ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে বৃষ্টি হলে ড্রেন দিয়ে পানি না বের হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মোহাম্মদ সেলিম জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার কারনে ড্রেনের পানি বের হওয়ার মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা দূর হতে চার থেকে পাঁচদিন সময় লেগে যায়। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে এলাকাবাসিকে চলাচল করতে হয়। একই কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী। বারান্দিপাড়া এলাকার পিল্টু নামেএক ব্যক্তি জানান, ভারি বর্ষণে বারান্দিপাড়ার মাঠপাড়ার মাঠপাড়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি না হলেও কয়েকদিন সেখানে জলাবদ্ধতা থাকে। তার মধ্যেই এলাকাবাসিকে আসা যাওয়া করতে হয়। একই বক্তব্য কারবালা এলাকার বাসিন্দাদের।
এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌরএলাকার পানি বের হতে শংকরপুরের হরিণাবিলে খালকাটা হয়েছিল। সেখানে ময়লা জমে আছে। ভারি বর্ষণের কারণে যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে,পানির চাপ বাড়ায় বের হতে পারছে না। ভারিবর্ষন থেমে গেলে আবার পরিষ্কার করা হবে।