বাঘারপাড়ার সাবেক পৌর মেয়র খলিলের সাজা বহাল, আত্মসমর্পণে নোটিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর বাঘারপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র খলিলুর রহমানের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি মামলার সাজা বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এ আদেশ কার্যকর করার জন্য আসামির আইনজীবীকে নোটিশ দেয়া হয়েছে খলিলুর রহমানকে আদালতে আত্মসমর্পণ করাতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক যশোরের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
২০১৬ সালের ২ আগস্ট যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতের তৎকালিন বিচারক এক রায়ে আসামি খালিলুর রহমানকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত খালিলুর রহমান জামিনে আছেন। খলিলুর বাঘারপাড়া পৌরসভার প্রথম নির্বচিত মেয়র ও দোহাকুলা গ্রামের মৃত সুফি আবু দাউদ হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বাঘারপাড়ার দোহাকুলা গ্রামের মৃত আমির আলী বিশ্বাসের ছেলে মশিয়ার রহমান একজন ব্যবসায়ী। তিনি দোহাকুলা বাজারের উত্তরপাশে নদীর পাড়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন। জমির পরিমাণ ছিল ১০ বর্গমিটার। ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে খলিলুর রহমান কয়েকজন অপরিচিত লোক নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে গুড়িয়ে দেন। ২১ জানুয়ারি রাতে তিনি জমিতে প্রাচীর দিয়ে দখল নিয়ে নেন। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। ২৪ জানুয়ারি তিনি দুদক যশোরে অভিযোগ দেন। দুদক কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ২৬ জানুয়ারি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা করেন মশিয়ার রহমান। অভিযোগটি গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন বিচারক। এ অভিযোগের তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় খলিলুর রহমানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আমিনুর রহমান।
মামলাটি পরবর্তীতে চার্জ গঠন করে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতে উপস্থিত সাজাপ্রাপ্ত খলিলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক।
এরপর সাজাপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান যশোর স্পেশাল জজ আদালতের দেয়া সাজার বিপক্ষে হাইকোর্টে আপিল করেন। যার নম্বর ৭০৪৩৯/২০১৬। আপিল বিভাগ মামলার র্পূণাঙ্গ শুনানী শেষে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর বিচারক মো.শওকত হোসাইন এক রায়ে পূর্বের সাজা বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেন। এ আদেশ যশোর আদালতে এসে পৌঁছালে বৃহস্পতিবার সাজাপ্রাপ্ত খলিলুর রহমানকে আদালতে আত্মসমর্পণ করাতে তার আইনজীবীকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।