জীবননগরে ‘জ্বিনের’ কাছ থেকে টাকা ডাবল করার হিড়িক


# তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ>
জীবননগর প্রতিনিধি:
জ্বিনের কাছ থেকে টাকা ডবল করে নেয়ার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের শতাধিক ব্যক্তি লাখ লাখ টাকা প্রতারকদের হাতে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ডবল না হওয়ায় তিন জ্বিন কারবারীকে ধরে পুলিশে দিয়েছে জনতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনজনকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মৃত ফঁটিক বিশ্বাসের ছেলে ওমেদুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের খয়ের খাঁর স্ত্রী মাজেদা খাতুন(৪৫),শাহিনের স্ত্রী মাছুরা খাতুন(২৫) ও শাহিন (৩০) এলাকার সহজ- সরল মানুষের কাছে প্রকাশ করে তারা জ্বিন বশ করে টাকা ডবল করে দিতে পারবে। এ পর্যায়ে তারা মানুষের মধ্যে বিশ্বাস অর্জন করতে প্রথমদিকে কিছু ব্যক্তির নিকট থেকে যে টাকা নেয় তার দ্বিগুন টাকা দেয়। আবার অনেককে তাদের বাড়িতে নিয়ে সারা ঘর বিছানো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দেখায়। ঘটনাটি দিনে দিনে এলাকায় প্রচার হতে থাকে। এতে অনেক মানুষ দ্বিগুন টাকা পাওয়ার আশায় তাদেরকে লাখ লাখ টাকা দেয়। এ ভাবে তাদের খপ্পরে পড়া এলাকার শতাধিক মানুষের ৭০-৮০ লাখ টাকা দিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের আসল টাকাও ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাতে কালক্ষেপনের এক পর্যায়ে এলাকা ছেড়ে পলিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা পড়েন বিপাকে। সম্প্রতি প্রতারক চক্রটি আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং নতুন কৌশলে প্রতারণা শুরু করে। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা বেশ কিছু ভুক্তভোগী প্রতারক মাজেদাদের বাড়িতে গেলে তারা আমাদের সাথে মারমুখি আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গ্রামের উত্তেজিত মানুষ কাদেরকে আটকিয়ে মারপিট শুরু করলে তারা বলে কিছু টাকা জীবননগর সোনালী ব্যাংকে জমা আছে। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করি।
ভুক্তভোগী রেজাউল ইসলাম রেজা ও মফিজুল ইসলাম জানান আমরা দু’জনে মিলে প্রতারকদের ৪৮ হাজার টাকা দিই। প্রতারকরা যখন তাদের ঘরে থাকতো তখন ঘর ভর্তি টাকা দেখেছি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে তারা ঘর থেকে নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সব টাকা কোথায় চলে গেছে! তারা এলাকার এক-দেড়শ মানুষের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে। প্রতারকদের দাবি তারা টাকা সোনালী ব্যাংকের ক্যাসিয়ার সালামের নিকট রেখেছে।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন ময়েন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,প্রতারকরা এক বছর আগে থেকে প্রতারণা শুরু করেন। তারা এ পর্যন্ত৭০-৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা তাদেরকে নিয়ে জীবননগর সোনালী ব্যাংক শাখায় যাই এবং ক্যাসিয়ার সালাম বলেন,তার অ্যাকাউন্টে প্রতারক চক্রের ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা আছে। তবে উক্ত টাকা প্রতারকরা কি ভাবে আয় করেছে তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও প্রতারকদের আত্মীয় শাহাবুলের নিকট সাড়ে চার লাখ টাকা এবং সাজেদা ওরফে বড় বুড়ির নিকট ১২ লাখ টাকা মজুদ আছে বলে প্রতারক মাছুরা খাতুন জানিয়েছে।
সোনালী ব্যাংক জীবননগর শাখার ক্যাসিয়ার আব্দুস সালাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়েন চেয়ারম্যান মাছুরাকে আমার নিকট নিয়ে গিয়েছিল। আমার গ্রামের বাড়ী হরিহরনগর হলেও মেয়েটিকে কখনও দেখিনি। তবে তার মাকে আমি চিনি এবং সে ব্যাংকে আসা- যাওয়া করে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যদের অনুরোধে আপাতত মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে না। তবে আপস নিস্পত্তি না হলে তদন্ত পুর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।