দীর্ঘ প্রতীক্ষিত খুবির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন


খুলনা প্রতিনিধি:
শুক্রবার জুম্মা নামাজের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে মসজিদের উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত করা হয়। পরে জুম্মার নামাজ শুরু হওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
উপাচার্যের শুভেচ্ছা বক্তব্যের আগে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, মসজিদের দ্বিতীয়পর্বের চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নকারী টিমের প্রধান স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মোঃ মারুফ হোসেন সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পরে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মওলানা মুফতি আব্দুল কুদ্দুস বয়ানের পর এ মসজিদের প্রথম জুম্মার নামাজে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, দেশ, জাতি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়ার আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশ ইমাম হাফেজ মাও. মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ। এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় এ মসজিদের প্রথম আজান দেন মসজিদের খাদেম হাফেজ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ বহুসংখ্যক শিক্ষক, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতিসহ বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আশপাশ এলাকায় অবস্থানরত ছাত্র, এলাকাবাসী এবং আশপাশের উপজেলাসহ দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা জুম্মার নামাজে শরিক হন। বেলা ১২টার আগেই পায়ে হেটে, সাইকেল, রিকশা, মোটর সাইকেল, ইজিবাইক, প্রাইভেটকারে মুসল্লিদের আগমন শুরু হয়। নামাজ ও বয়ায়নের আগেই মসজিদ মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দু’হাজার মুসল্লি প্রথম এ জুম্মার নামাজে শরিক হন।
১৪৫০০ বর্গফুট আয়তনের একতলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি এক গুম্বজ বিশিষ্ট। এই গুম্বজটি খুলনাঞ্চলের সর্ববৃহৎ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আবদুল কাদির ভূঁইয়া ২০০৩ সালে এ মসজিদটির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের তৎকালীন শিক্ষক মুহাম্মদ আলী নকী মসজিদটির প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করেন। তবে মসজিদের প্রাথমিক ভিত্তির কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন আর এর নির্মাণ কাজ এগোয়নি। ২০১৪ সালে বর্তমান উপাচার্য মসজিদের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে তা শেষ করতে নিরন্ত উদ্যোগ নেন। এ সময় মসজিদটির নকশার কিছুটা পরিবর্তন সাধন করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়।