এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন ভাঙা নিয়ে অনিয়ম


মিরাজুলকবীর টিটো:
যশোর এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরাতন দুইতলা ভবন অপসারণ কাজের দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দরপত্র গ্রহণের শেষ দিনেই গোপনীয়ভাবে ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দরপত্রে অংশ নেয়া অন্যান্য ঠিকাদাররা। এমনকি ভবন অপসারণ কমিটির আহবায়কের অনুপস্থিতিতেই কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।
এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ কাজের অনুমোদন দিয়েছে যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে এ ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ওই স্থানের মাটি পরীক্ষা বিলম্বিত হওয়ায় দ্রুত কাজ করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় কমিটি পশ্চিম পাশের দুইতলা ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ কাজের জন্য স্থানীয় একটি পত্রিকায় টেন্ডার আহবান করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে ২৩ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত টেন্ডার জমা দেয়ার সময়সীমা ছিল। এ সময়ের মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার জমা দেয়।
টেন্ডারে অংশ নেয়া ফাহিম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ইকবাল হোসেন ইকু জানান, ‘২৩ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। টেন্ডার জমা দেয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম জানান ২৯ আগস্ট শনিবার টেন্ডার ওপেন করা হবে। আমরা শনিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তারা আগেই তাদের পছন্দ মতো ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে দিয়েছে। এমনকি যে দিন টেন্ডার ওপেন করার কথা সেই ২৯ আগস্ট থেকে তারা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনামের কাছে ফোন দিলে তিনি বলেন ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তিতে খোজ নিয়ে জানা গেছে টেন্ডার ওপেনের সময় ঠিকাদারদের জানানো হয়নি। তারা ঘরে বসে ঠিকাদার চূড়ান্ত করে কাজ দিয়েছে।’
খোজ নিয়ে জানা গেছে, চার লাখ ৮৩ হাজার ৮শ টাকার টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা নিউ ফাতেমা আয়রন নামক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। টেন্ডার কমিটি আহবায়ক মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতে এ কাজ করা হয়েছে। মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য আহসান হাবিব শিক্ষক আব্দুল বারীক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম ও আরেক শিক্ষক উপস্থিত থেকে টেন্ডার ওপেন করে ঠিকাদার সিলেকশন করে কাজ দেয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম জানান, ‘স্বচ্ছতার সাথে টেন্ডার অপেন করে সর্বোচ্চ দর দাতাকে কাজ দেয়া হয়েছে। এ কাজ প্রথম করা হচ্ছে বলে ঠিকাদারদের উপস্থিত রাখার বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আমারা টেন্ডার ওপেন করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ফোনে কার্যাদেশ দিয়ে দিয়েছি।’