বেনাপোল কাস্টম হাউস জুলাই আগস্টে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুইমাসে বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৯৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫০১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ সময় বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন পণ্য।  বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ২২৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে ২৭৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর ভারত থেকে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন।

গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয় ৫ হাজার ৯৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ সময় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আদায় করে মাত্র ২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৬৩ লাখ  টাকা। এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪৫৮ কোটি  ১২ লাখ টাকা। এর আগেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল। ওই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা  দেয়া হয়েছিল ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, কম শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হলে রাজস্ব কমবে এটা স্বাভাবিক। বিভিন্ন জটিলতার কারণে গাড়ির চেসিস, মোটরপার্টসসহ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে গেছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দিন দিন আমদানি পণ্যের উপর অযৌক্তিকহারে শুল্ককর বাড়ছে। এতে বৈধভাবে আমদানি কমে বাড়ছে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার। শুল্কহার স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হলে বৈধপথে আমদানি বাড়বে। এতে বাড়বে রাজস্ব আয়।

তিনি বলেন, বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজার টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, বেনাপোল বৃহৎ বন্দর হলেও এর কোন সুফল আমরা পাচ্ছিনা। সপ্তাহে ৭ দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও কাগজে-কলমে। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে বেনাপোল দিয়ে কম শুল্কযুক্ত পণ্য বেশি আমদানি হবার কারণে রাজন্ব আদায় কম হচ্ছে। তার উপর করোনার ধাক্কা লেগেছে। বন্দরটি সচল থাকলে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।