উপনির্বাচন-যশোর সদর উপজেলা পদ শূন্য ঘোষণার পর ২০২ দিন পার

 

মিরাজ কবীর টিটো: নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনে ডামাডোল থাকলেও তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় সবাই। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন বিধি অনুযায়ী পদ শূন্যের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। করোনা মহামারির কারণে পেরিয়ে গেছে ২০২দিন। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে কি হবে এ বিষয়ে া গাইড লাইন না থাকায় নির্বাচন কমিশনকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে কারণে কবে হবে নির্বাচন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যে দিনই হোক নির্বাচনতো হবে এ আশায় মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে উচ্ছুক যারা তারা সামাজিক কাজসহ নানা ধরনের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি ও জাতীয়পার্টি দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৫টি ইউনিয়নের ১৩৫টি ওয়ার্ড ও ২৫৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত যশোর সদর উপজেলা পরিষদ। সদর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৫ হাজার। উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন জাসদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। এরপর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলী রেজা রাজু। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক। তারপর যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তিনি চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগের পর সংসদ সদস্য নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। তার পদত্যাগের পর ২৪  ফেব্রুয়ারি ওই পদ শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই দিনে ভাইসচেয়ারম্যান নুর জাহান ইসলাম নীরাকে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অথচ পদ শূন্য হওয়ার সাত মাসেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যশোর জেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবীর জানান করোনা ভাইরাসের কারণে যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। তবে এ নির্বাচনের বিষয়ে  নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছে। এদিকে এ পদকে ঘিরে চলছে আওয়ামী লীগের ৮ প্রার্থীর প্রচারণা। প্রকাশ পাচ্ছে প্রার্থীদের ব্যক্তি ইমেজ। প্রার্থীরা সবাই বলেছেন দলীয় মনোনয়ন পেলেই কেবল নির্বাচন করবেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তাকে সমর্থনও দেবেন। প্রার্থীরা হলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ এসএম হুমায়ুন কবীর কবু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুর জাহান ইসলাম নীরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিপু।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেছেন ‘আমি এর আগে যশোর সদরের নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই সাথে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। সভাপতি হিসেবে যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মানুষের কাছে আমি অনেক পরিচিত। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলে অবশ্যই জয়লাভ করবো। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। আর দল যাকে মনোনয়ন দেবে তাকে সমর্থন দেবো।’

সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ এসএম হুমায়ুন কবীর কবু বলেছেন তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। তিনি যদি উপজেলা নির্বাচনে  জয়ী হন তাহলে উপজেলাকে সুন্দর করে সাজাবেন। টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, অনিয়ম দুর করে  উপজেলা বাসিকে সঠিক সেবা দেবেন। দল যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবেন। তা না হলে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ জানান উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। তিনি বিশ্বাস করেন দলীয় যোগ্যতা, ত্যাগের বিষয় বিশ্লেষণ করে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তবে দলিয় মনোনয়ন না পেলে তিনি নির্বাচন করবেন না।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুর জাহান ইসলাম নীরা বলেছেন ‘সদর উপজেলার মানুষের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে। নির্বাচন উপলক্ষে আমি মাঠে প্রচারণায় আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো।’

জেলা পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচন করবো। এজন্য সব সময় জনগনের সাথে আছি । আগামীতেও থাকবো। তবে দল মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করব না।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম  বলেন ‘গত ১৬ নভেম্বরে সদর উপজেলা নির্বাচনে তৃনমূল নেতাকর্মীদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। পাশাপাশি আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়ন বাসীর সেবা করছি। উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। তবে এখানে ব্যক্তি ইমেজ থাকলে হবে না। দল যাকে নৌকা প্রতীক দেবে সেই প্রার্থী বিজয়ী হবেন। এ ক্ষেত্রে দল মনোয়ন দিলে নির্বাচন করবো।’

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেছেন, তিনি উপজেলা নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবেন। তা না হলে দল যাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবেন তাকে সহযোগিতা করবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিপু বলেছেন ২০ বছর ধরে তিনি  রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। আগামী উপজেলা নির্বাচন প্রার্থী হতে চান। এজন্য বিভিন্ন স্থানে প্যানা, ফেস্টুন টাঙ্গিয়েছেন। তবে দলিয় মনোনয়ন না পেলে তিনি নির্বাচন করবে না।

যশোর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, তাদের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত হবে।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম চৌধুরী সরু জানান, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তারা দলীয় সভা করে প্রার্থী নির্ধারণ করে মাঠে নামবেন।