ভারতে গেলো ইলিশ, এলো না পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা হিসেবে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ইলিশের প্রথম চালান রপ্তানি হয়েছে ভারতে। প্রথম দিনে দু’টি ট্রাকে গেছে ১২ টন ইলিশ।

অন্যদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল পেঁয়াজ আমদানি। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি প্রায় দেড়শ ট্রাক।

জানা যায়, ইলিশের চালানটির রপ্তানিকারক খুলনার জাহানাবাদ সি ফিশ লিমিটেড। প্রতিকেজি ইলিশের রফতানি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার হিসেবে আটশ’ টাকা। এই দরে রপ্তানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ হবে এক কেজি থেকে ১২শ’ গ্রাম ওজনের।

মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ৯ জন রপ্তানিকারককে মোট ১ হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রতিকেজি ১০ মার্কিন ডলার দরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করা হবে।

এ বছর মোট ১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করা হবে। বেনাপোল কাস্টমস থেকে মাছগুলো ছাড়িয়ে রপ্তানির দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছে সিন্ডএফ এজন্ট নিলা এন্টারপ্রাইজ।

সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে ইলিশের চালান বেনাপোল বন্দরে পৌঁছালে কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিকেলে রপ্তানির অনুমতি দেয়। পর্যায়ক্রমে মাসজুড়ে বাকি ইলিশ ভারতে যাবে।

সিএন্ডএফ এজেন্ট মহিতুল হক জানান, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতায় ইলিশ নিয়ে যাবেন। পরে সেখানকার বাজারে তা বিক্রি করবেন। কলকাতা ছাড়াও এই ইলিশ বিক্রি হবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে।

এর আগে ২০১২ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর গত বছর শারদীয়া দুর্গোৎসবে শুভেচ্ছা হিসেবে ৬ মার্কিন ডলার হিসেবে ৫০৭ টাকা কেজি দরে পাঁচশ’ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। ওই বছরের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছের সর্বশেষ চালান ভারতে প্রবেশ করে।

অন্যদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল পেঁয়াজ আমদানি। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি প্রায় দেড়শ ট্রাক। এদিন সকালে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৫০ টন পেঁয়াজ ঢোকার পরপরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সংগঠন।

বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল রফতানিকারক সমিতির পক্ষে ব্যবসায়ী কার্তিক ঘোষ বলেন, আমদানি বাণিজ্য শুরুর পর থেকে ২৫০ ডলারে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। কিন্তু বন্যার কারণে ভারতের নাসিকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ রফতানিকারকরা স্থানীয় বাজারদর হিসাবে ৭৫০ ডলারের নিচে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আটকে দেয়া হয় বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকগুলো।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ভারত কোনো ঘোষণা ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পারিক বাণিজ্য সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রপ্তানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমাদানিকারকদের সময় বেধে দিতে পারতেন। হঠাৎ নেয়া এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন এপারের আমদানিকারকরা।

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়ে ভারতের হিলির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে রফতানি বন্ধে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসে নির্দেশনা দিয়েছে। সে মোতাবেক কাস্টমস কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আজ থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে।

শংকর দাস জানান, এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। তবে অচিরেই জারি হবে। একইসঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনো পেঁয়াজ রফতানি হবে না।