মাঠ কাপানো ফুটবলার থেকে প্রশিক্ষক আব্দুস সেলিম

মারুফ কবীর : যশোর জেলা দলসহ ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন ক্লাবে ১৬ বছর দাপটের সাথে ফুটবল খেলেছেন মো. আব্দুস সেলিম। খেলোয়াড় থাকা অবস্থায়ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এ খেলোয়াড়। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে ২০১৫ সালে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজেকে আতœপ্রকাশ করেন আব্দুস সেলিম। ২০১৫ সালেই যশোরের ঐতিহ্যবাহি টাউন ক্লাবের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। সেবছরই যশোর প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল টাউন ক্লাব। খেলোয়াড় জীবনে নিজে খেলেছেন এবং একই সাথে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন আব্দুস সেলিম। আর্মিসহ আরও অনেক ক্লাবের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সাবেক এ কৃতি ফুটবলার। এছাড়া যশোর জেলা দলের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছন তিনি।

১৯৮৫ সালে যশোরের পুরাতন ক্লাব ডায়মন্ড ক্লাবের হয়ে যশোর প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে খেলেন আব্দুস সেলিম। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক প্রশিক্ষক ওয়াজেদ গাজীর প্রশিক্ষনে যশোরের টাইন ক্লাবে খেলেন আব্দুস সেলিম। রক্ষনভাগের  তথা ডিফেন্সের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ দু’বছর তরুণ সংঘ শেখহাটি, ভাসকাদামা ক্লাবে খেলেন। এছাড়া ইসহাক স্মৃতি সংঘ , প্রত্যাশা ক্লাবসহ আরও অনেক দলের হয়ে মাঠ কাপিয়েছেন কৃতি এ ফুটবলার। যশোরের বাইরে ঢাকা ও খুলনার নামিদামি ক্লাবের হয়ে সুনামের সাথে খেলেছেন আব্দুস সেলিম। ১৯৮৮ সালে খুলনা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে মুসলিম ক্লাবের হয়ে খেলেন রক্ষণভাগের এ খেলোয়াড়। খুলনার শিপিয়ার্ড ক্লাবে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলস’র হয়ে খেলেন আব্দুস সেলিম। ঢাকা লিগে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে খেলেন বিজিএমসি ক্লাবে। ২০০৬ ও ২০০৭  সালে খেলেন আজাদ স্পোটিং ক্লাবে। খুলনায়  লিগ খেলার সময় তৎকালিন কোচ আব্দুস সেলিমকে বাঘা সেলিম নামে উপাধি দেন। আব্দুস সেলিম মুলত রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন তার পরও সমগ্র মাঠ দাপিয়ে খেলতেন তিনি। বাঘের মতো ক্ষিপ্র গতিতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতেন আব্দুস সেলিম। এজন্য তাকে বাঘা সেলিম উপাধি দেয়া হয়। এখনও যশোর খুলনা ঢাকা সবখানে বাঘা সেলিম নামে পরিচিত আব্দুস সেলিম।

আব্দুস সেলিম বলেন, বর্তমানে নাম না জানা টাকা পয়সা আছে এমন লোক ক্রীড়া সংগঠক বনে যাচ্ছেন। এ কারণে খেলাধুলার উন্নতি হচ্ছে না। সাবেক খেলোয়াড়রা যদি পরবর্তিতে ক্রীড়া সংগঠক হয় তাহলে খেলাধুলার উন্নয়ন সম্ভব। এজন্য সাবেক খেলোয়াড়দের ক্রীড়াঙ্গণে আসার আহবান জানিয়েছেন আব্দুস সেলিম। তিনি আরও বলেন, যশোরের ক্রীড়াঙ্গণে এবিএম আখতারুজ্জামান আমাকে সবসময় পরামর্শসহ সব ধরণের সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। এছাড়া আরও অনেক ভালো ক্রীড়া সংগঠক আছে তাদের অনুপ্রেরণায় এখনও খেলাধুলা চলমান।