পেঁয়াজের মজুতদাররা ধরাশায়ী ক্রেতা নেই বাজারে

মুর্শিদুল আজিম হিরু : হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বেশি করে পেঁয়াজ কেনার ফলে এখন পেঁয়াজ মুখী হচ্ছেন না ক্রেতারা। একপ্রকার পেঁয়াজের দোকান এখন ক্রেতা শুন্য। এখন যারা পেঁয়াজ কিনছেন তারা বাধ্য হয়েই প্রয়োজনের তাগিদে কিনছেন। তাছাড়া বিভিন্ন দেশে থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে বাজারে এখন দাম পড়তির দিকে। আর পেঁয়াজ মজুত করার চিন্তাভাবনা যারা করেছেন তারা ধরাশায়ী হয়েছেন। এদিকে, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রশাসন এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারি পরিচালক মো.ওয়ালিদ বিন হাবিব জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দামের উর্ধ্বগতি রোধ ও বাজার মূল্য যৌতিক পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিন তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদেরকে সঠিক দামে পেঁয়াজ বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ ও মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। অন্যথায় জরিমানা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত সবজি, চাল, ডাল, মরিচ, ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য পণ্যে। ইলিশ মাছের সরবরাহ বাড়লেও গত কয়েক দিনের তুলনায় দাম একটু বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে পেঁয়াজ-রসুন সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরমধ্যে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে জেলা প্রশাসন সভা করেছে। গত তিন দিন ঊর্ধ্বদামে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ছিল কিছুটা নমনীয়।

বড় বাজারে পেঁয়াজ রসুনের আড়তদার বাদশা মিয়া জানিয়েছেন, পেঁয়াজ রসুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। প্রতি ঘরে প্রচুর পেঁয়াজ রসুন আছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা আগের মত মাল কিনছেন না। খুচরা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মত বেশি কিনতে সাহস পাচ্ছিনা। তারপর পেঁয়াজের ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে আগের চেয়ে পেঁয়াজ-রসুনের দাম কিছুটা নি¤œমুখি। শেখহাটি বাবলাতলা মোড়ের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত বছরের মত এবারও পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কায় ছিলাম। কয়েকদিন আগে পেঁয়াজোর দাম ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু পেঁয়াজ কিনে রেখেছিলাম। একলাফে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পেঁয়াজ কিনতে আর বাজারে যাইনি।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮০ টাকা। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয় ১১০ টাকা কেজি। আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হয় ১শ’ টাকা কেজি। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয় ১৬০ টাকা কেজি। আলু বিক্রি হয় ৩৫ টাকা কেজি।

বাজারে ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত আছে সবজি। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৭০ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কুমড়া। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৮০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধেঢ়স। প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয় ৬০ টাকা। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় উচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ৩০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ডাটা। প্রতি কেজি পুইশাক বিক্রি হয় ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাঁকরোল। প্রতি কেজি কুশি বিক্রি হয় ৪০ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরলতি। প্রতি কেজি কলা বিক্রি হয়  ৪৫ টাকা ৫০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পটল। প্রতি কেজি ধুন্দল বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজি। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙে। প্রতি কেজি কচুরমুখি বিক্রি হয় ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা। ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ওল। প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় লাল ও সবুজ শাক।

বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৯০ টাকা। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল। প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৬৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা।

বাজারে ডালের দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হয় ১শ’১০ টাকা কেজি। ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা । ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হয় ১শ’টাকা থেকে ১শ’১০ টাকা।

বাজারে ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত আছে চাল। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা।  ৪৬ টাকা থেকে ৪৭ টাকা কেজি বিক্রি হয় বিআর-২৮ চাল। প্রতি বেজি কাজল লতা চাল বিক্রি হয় ৪৫ টাকা থেকে ৪৭ টাকা। ৪৭ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।

বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ বেশ ভালো। দামও কম। প্রতি কেজি বড় সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি হয় ৯শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। সাড়ে ৪শ’টাকা থেকে ৭শ’টাকা বিক্রি হয় মাঝারি সাইজের ইলিশ। প্রতি কেজি ঝাটকা ইলিশ বিক্রি হয় ৩শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’টাকা।