মহালয়ায় তিল তর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে মহালয়ার শুভক্ষণে সনাতনধর্মীয় আচারানুষ্ঠান আর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে যশোরে তিল তর্পণ অনুষ্ঠানসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শোক, তাপ, দুঃখ, অমঙ্গল, অন্ধকারহরণ করে শুভ, মঙ্গল, আনন্দপ্রদানকারী ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী মা’কে হিমালয় থেকে মর্ত্যে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলো। পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে চিরাচরিত প্রথায় শুভারম্ভ হল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবের।

শাস্ত্রমতে মহালয়ার পর নানা ধর্মীয়ক্রিয়াদী সম্পন্ন করে ৬দিন পর দুর্গাপূজা শুরু হলেও এ বছর দুর্গতীনাশিনী শ্রীশ্রী দেবী দুর্গার বোধন অর্থাৎ ষষ্ঠী পড়েছে ৩৫ দিন পরে, অর্থাৎ আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিক মাসে।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এ বছর আশ্বিন মাসে দুটো অমাবশ্যা। প্রথমটা ১৭ সেপ্টেম্বর ও দ্বিতীয়টা ১৬ অক্টোবর। শাস্ত্রীয় মতে তিথি-নক্ষত্রের হিসেবে আশ্বিন মাসে দুটো অমাবশ্যা। একমাসে দুটো অমাবশ্য পড়ায় এবছর আশ্বিন মাসকে বলা হচ্ছে ‘মলমাস’ (মলিন)। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীরা এমন মাসে সাধারণতঃ শুভক্রিয়াকর্মাদী আয়োজন করেনা। ফলে পুজো পিছিয়ে কার্তিক মাসে চলে গেছে। তাই এবছর মহালয়া ১৭ সেপ্টেম্বর হলেও, ষষ্ঠী পড়েছে অর্থাৎ দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে ২২ অক্টোবর। পঞ্জিকা মতেই এটা ঘটতে চলেছে। ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল ২০০১ সালেও।

মায়ের আগমনীবার্তা বেজে যাওয়ার পরেও মায়ের মর্ত্যে আগমনে দেরির ঘটনা এই প্রথম নয় বলে জানিয়েছেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী আত্মবিভানন্দ মহারাজ।

এদিকে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষে মহালয়ার এ শুভক্ষণে কর্মসূচির মধ্যে ছিল পরলোকগত পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় সনাতনধর্মীয় শাস্ত্রমতে তিলতর্পণ অনুষ্ঠান, চণ্ডিপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা। এসব অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দ ছাড়াও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস মতে দেবীপক্ষের আগের কৃষ্ণা প্রতিপদে মর্ত্যধামে নেমে আসেন পিতৃপুরুষরা। অপেক্ষা করেন উত্তরসূরিদের কাছ থেকে তিল, তুলসী, জল পাওয়ার। মহালয়ার দিন অমাবশ্যায় তাঁদের উদ্দেশে তিল, তুলসী, জলদানই তর্পণ। তাই এই পুণ্যতিথিতে পিতৃপুরষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন সনাতন ধর্মবিশ্বাসীরা।

যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় তিলতর্পণ অনুষ্ঠানের। চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দ পরলোগত পিতামাতা ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিল, তুলসী, দুর্বা, ফুল, ফল, চন্দন ও তিলক সহকারে তিলতর্পণ শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন। এখানে পৌরহিত্য করেন কালীপদ চক্রবর্তী।

এছাড়া সনতান ধর্মসংঘ যশোরের উদ্যোগে যশোরের পৌর উদ্যাণ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় পূজা ও চন্ডিপাঠ, আলোচনা শেষে তিল তর্পন ও পার্বণশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে পৌরহিত্য করেন সনাতন ধর্ম সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল কুমার চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বায়ক অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার, সদস্য সচিব শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র বিশ^াস, সদস্য প্রবীর কুমার সরকার, স্বপন কুমার শর্ম্মা, মদন মোহন দত্ত, শিমুল কুমার বিশ^াস, রিনা রাণী বিশ^াস, গৌরাঙ্গ কুমার ঘোষ, রতেœশ^র দাস, সুব্রত দাস, বীণা রাণী, সজল দাস, রণি রায় প্রমুখ।