লালদিঘির মূল সীমানা রক্ষা  ও পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘি রক্ষায় লক্ষ্যভূক্ত জনগোষ্ঠীর ভাবনা শীর্ষক দলীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সুরধুনী সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লালদিঘির মূল সীমানা রক্ষা ও পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাম নেতা নাজিম উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন  বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল।  যশোরের ঐতিহ্যবাহি লালদিঘির পূর্ব ও বর্তমান অবস্থার তথ্য উপাত্ত উপস্থান করে বলেন, যে কোন কিছু ১০০ বছর পার হলেই সেটা প্রতœতত্ত্ব। সেদিক থেকে যশোরে লালদিঘি শুধু ঐতিহ্যবাহীই নয়, প্রতœতাত্ত্বিকও বটে। বেলা পরিবেশ, ঐতিহ্য, প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই দিঘির অতীত ঐতিহ্য, পরিবেশ-প্রকৃতির কথা বিবেচনা না করে যশোর পৌরসভার উদ্যোগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় লাল দিঘির উত্তর অংশ ভরাট করে আধুনিক বাণিজিক ভবন তৈরি করছে; যা দৃশ্যমানও। যশোর পৌরসভা এই দিঘীর একটি বড় অংশ ভরাট করে  বহুতলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন তৈরির কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। এলাকার মানুষের আপত্তি এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর কিছুদিনের জন্য কাজ বন্ধ থাকলেও লালদিঘি বাঁচিয়ে এবং সংরক্ষণ করে ভবনের কাজ করা হবে এবং দিঘির সীমানা অটুট থাকবে এই শর্ত সাপেক্ষে পৌরসভা আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। বাস্তব অর্থে দেখা যাচ্ছে লালদিঘিটির সীমানা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে দিঘির কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু পৌরসভার ম্যাপ অনুযায়ী দিঘির প্রায় ১৮ ফুট জায়গা দখল করে বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে। বেলা এ দিঘি বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে চায়। এ ক্ষেত্রে যশোরবাসীর ভূমিকা থাকতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মাকর্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, শ্রমিক নেতা  মাহবুবুর রহমান মজনু, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির (মাকর্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু,  জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল হোসেন,  জেলা বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক হাচিনুর রহমান, জনউদ্যোগের বিথিকা সরকার, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, প্রেসক্লাব যশোরের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদ জামান, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মিলন, প্রণব দাস, বামনেতা দিলীপ ঘোষ সখিনা বেগম প্রমুখ।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশে অল্প অল্প করে এভাবেই দখল হয়ে যাচ্ছে সকল জলাশয়। যা জলাধার আইন ২০০০ অবমাননার সামিল। আলোচকরা এই ঐতিহ্যবাহী লাল দিঘী সংরক্ষণে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিঘিটির সীমানা রক্ষা এবং দিঘিটির পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষার দাবি জানান। সেই সাথে বেলাকে এই ঐতিহ্যবাহী লাল দিঘী সংরক্ষণে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।