হবিগঞ্জের নারী চোর সিন্ডিকেট যশোরে সক্রিয়


নিজস্ব প্রতিবেদক :
হবিগঞ্জের একটি নারী চোর সিন্ডিকেট চক্র যশোরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বাড়ি হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বেশির ভাগ সময় যশোর-বেনাপোল, মণিরামপুর, সাতক্ষীরা সড়কের যাত্রীবাহী বাস, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশনসহ জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিয়ে থাকে। নারীযাত্রী টার্গেট করে তাদের কাছে থাকা সোনার গহনাসহ নানা মূল্যবান জিনিস কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে যশোর-বেনাপোল সড়কের নতুনহাট বাজার নামক স্থানে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। এই সময় রিনা বেগম (৩৫) নামে এক নারী আটক হয় জনতার হাতে। তার বাড়িও হাবিগঞ্জে। তিনি ওই জেলার মাধবপুর উপজেলার বাঘাছড়া গ্রামের সানু মিয়ার স্ত্রী।
এর আগে যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্টে এক নারীর কাছ থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। ওই তিন নারীর বাড়ি ছিলো হবিগঞ্জে।
সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামের গোলাম হোসেন সরদার জানিয়েছেন, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিকরগাছায় মেয়ের বাড়ি থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে করে আসছিলেন। নতুনহাট বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সময় রিনা খাতুন ওই গৃহবধূর গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন কৌশলে খুলে নেয়। এ সময় টের পেয়ে ওই গৃহবধূ চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে রিনাকে আটকের পর তার কাছ থেকে চেইনটি উদ্ধার করা হয়। তবে রিনার সাথে থাকা আরো ৩/৪জন পালিয়ে চলে যায়। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে রিনাকে আটকের এই ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত ওই নারী চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা যাত্রী সেজে থাকে। তারা কখন কী করছে তা বোঝা মুসকিল। তবে হাতে নাতে আটক না হওয়া পর্যন্ত শনাক্ত করা কঠিন। তবে পুলিশ চোর সিন্ডিকেটের বিষয়ে সর্তক আছে।
শুক্রবার আটক রিনাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে রিনার সহযোগিদের তথ্য উদঘাটনের ব্যাপারে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাসুদুর রহমান।