করোনাকালীন সময়ে যশোরের চিকিৎসক ও সেবিকাদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াত ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে করোনাকালীন সাত মাসে চিকিৎসক, নার্সদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। খরচের পুরোটাই বাকি রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে টাকা এলে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়। যশোর সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত যশোর জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ তথ্য উত্থাপিত হয়।

সভায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় বলেন, চলতি মাস থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৭ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। পাশাপাশি বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতলে করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও রোগীর সংখ্য কম। সেখানে মাত্র ১জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে জেনারেল হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার ঘোষণা দেন

পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। এ সময় তিনি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করেন। একাজে পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে জানান পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন।

সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো বেশি গুরত্ব দেয়া হচ্ছে। ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ কার্যকর করতে রোববার সকল প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়া হবে ।

কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন জনসমাগম স্থানে মাস্কছাড়া সেবা বন্ধে প্রশাসন কড়াকড়ি সিন্ধান্ত নিয়েছে। এটা আরো বেশি কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন যশোরে করোনা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রশাসন ও আইনশৃখলা বাহিনী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। যশোরের অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধের জন্য জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করবে। দ্রুতই অবৈধ সকল ক্লিনিক-ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হবে। শুধু বন্ধ না প্রয়োজনে এসকল অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে জেল-জরিমানা দেয়া হবে।

সভায় কমিটির সভাপতি ও যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যশোরের সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলিপ কুমার রায়, পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহিন,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, এনএসআইর উপপরিচালক কবির আহমেদ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ প্রমুখ।