রহস্যাবৃত্তে যশোরের বাইক  চালক মুন্নার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর-নড়াইল সড়কের হামকুড়া মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় মোটরসাইকেল চালক মনির হোসেন মুন্নার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্তের রাস্তা আড়াআড়ি করে রাখা চিকন তারে চলন্ত অবস্থায় মুন্নার গলায় লেগে মারাত্মক জখম হয়। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অবশ্য সে সময় দুর্বৃত্তরা তার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার পর থেকে তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার হয়নি। জানা যায়নি এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত। এদিকে পার হয়েছে ঘটনার প্রায় দেড় মাস।

তবে পুলিশ বলছে, এই ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। এটি একটি ক্লু-লেস মামলা। তবে পুলিশ নানা ভাবে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছে।

নিহত মনির হোসেন মুন্না যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর বিশ^াসপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলাম বিশ^াসের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন গত ১৭ আগস্ট কোতয়ালি থানায় দায়েরকরা এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামী ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ৮ আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে একজন যাত্রী নিয়ে যশোর থেকে নড়াইলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। পথিমধ্যে দাইতলা হামকুড়া ব্রিজের উপরে গেলে অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন দুর্বৃত্ত চিকন তার দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তার স্বামীকে ফেলে দেয়। এরপর মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয় ওই দুর্বৃত্তরা পাশেই বায়েজিদের মাছের ঘেরে নিয়ে রাখে। তবে তার কাছে থাকা মোটরসাইকেল, টাকা ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে চলে যায় ওই দুর্বৃত্তরা।

এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লাভলু মোল্লা নামে এক ব্যক্তি দেখে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ১২ আগস্ট উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরদিন ভোর ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে মারা যান তিনি।

প্রথমে এই মামলাটি কোতয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিন্তু ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে মামলাটি স্থানান্তর হয় ডিবি পুলিশে।

মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনার ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্র্বৃত্ত কারা হতে পারে তা শনাক্তের জন্য পুলিশ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের লোকজনও এই বিষয়ে কোনো তথ্য উপাত্ত দিতে পারছে না। রাস্তার এপার ওপার দিয়ে কারা চিকন তার ঝুলিয়েছিল তা অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। ডিবির কাছেও মামলাটি চ্যালেঞ্জিং বলে তিনি মনে করেন।