চিকিৎসায় ফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ডা. নিকুঞ্জ বিহারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার চিকিৎসাসেবায় ফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার অভিজ্ঞতায়  এবার সুস্থ জীবন পেয়েছেন খুলনা ও ঢাকা ফেরত নাজমা বেগম (৪০)। তিনি নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।

নাজমা বেগম জানান, গত ১০ আগস্ট নড়াইলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। ৭ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে যান তিনি। এরপর ২৯ আগস্ট থেকে তার অব্যাহতভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে স্বজনরা তাকে নিয়ে যান নড়াইলের ফ্যামেলি কেয়ার হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কোন ভাবেই তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিলো না। নাজমা আরো জানান, পরের দিন নড়াইলের চিকিৎসকরা তাকে রেফার্ড করেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এখানে তার অবস্থা দেখে চিকিৎসক রেফার্ড করেন খুলনায়। কিন্তু স্বজনরা তাকে নিয়ে যান যশোর ইবনেসিনা হসপিটালে। কিন্তু চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে স্বজনরা তাকে খুলনায় নিয়ে যান। খুলনার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠিয়ে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নাজমা বেগম আরো জানান, সেখানে তার ডি এনসি করা হয়। এরপর সামান্য রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। এ সময় চিকিৎসক বলেন ধীরেধীরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাসায় এসে রক্তক্ষরণ কোনোভাবে বন্ধ হচ্ছিলো না। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্বজনরা তাকে নিয়ে যান কিংস হসপিটালে ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের কাছে। তার চিকিৎসাসেবায় বর্তমানে তিনি সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছেন বলে জানান নাজমা।

ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার জানান, নড়াইলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর থেকে নাজমা পিপিএইচ সমস্যায় ভুগছিলেন। যে কারণে কোনোভাবেই তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিলো না। তিনি তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘসময় রোগীর অস্ত্রোপচার করেছেন। এতে সফলতা এসেছে। বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন।

নাজমার স্বামী আশরাফুল ইসলাম জানান, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য ছুটেছি। কিন্তু তার স্ত্রী সুস্থ হননি। শুধু টাকা ব্যয় হয়েছে। এই পর্যন্ত ২০ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে তার শরীরে। ডা. নিকুঞ্জ বিহারীর চিকিৎসায় নাজমা সুস্থ জীবন পেয়েছেন। এতে তারা অনেক খুশি হয়েছেন। নাজমার পরিবার ডা. নিকুঞ্জ বিহারীর প্রতি কৃতঞ্জতা প্রকাশ করেছেন।