প্রতারণার অর্থে বিত্তবৈভবের মালিক কবিরাজ আমেনা ও বিল্লাল

 

বি এইচ মোহাম্মদ : প্রতারণা ও অপচিকিৎসার মাধ্যমে অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামের কথিত জ্বীনের কবিরাজ আমেনা বেগম ও বিল্লাল হোসেন। দুজই নির্মাণ করেছেন দুইতলা বাড়ি। আবার মাঠে বিঘাবিঘা জমিও ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন, চান্দুটিয়া গ্রামের মধ্যপাড়ার বাকেরের পরিবারের কোনো সদস্য কাজ কর্ম করেন না। তার স্ত্রী আমেনার অর্থে চলে সব কিছু। এক সময় বাকেরের মাঠে কোনো জমি ছিলো না। বর্তমানে ১০ /১২ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। জমিতে লোক দিয়ে চাষাবাদ করানো হয়। বাকের আলী ও তার একমাত্র ছেলে মাঠে যান আর ক্ষেত দেখে চলে আসেন। তারা আরো জানান, জ্বিনের কবিরাজ পরিচয়ে আমেনা প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয় করেন। এই টাকা দিয়ে নির্মাণ করেছেন দুই তলা বাড়ি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রামের মানুষ তাদের কাছে ব্যবস্থা নিতে যান না। এলাকায় তারা ভুয়া কবিরাজ হিসেবে চিহ্নিত।

বিল্লাল হোসেনের পিতা সন্তোষ পেশায় ছিলেন দিনমজুর। খুব বেশি আবাদী জমি না থাকায় পরের ক্ষেতে কাজ করে সংসার চালাতেন। ২০১৩ সালের দিকে বিল্লাল হোসেন এমআই দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। একদিন হঠাৎ করে এলাকাবাসী জানতে পারেন বিল্লাল হোসেনের জ্বিনে আছর করেছে। সে মানুষের দোয়া তদবির দিচ্ছে। বিল্লালের প্রতিবেশীরা জানান, স্বল্প সময়ে ধান্দাবাজির মাধ্যমে বিল্লাল হোসেন অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন। চাটাইয়ের ঘরের পরিবর্তে এখন নির্মাণ করেছেন ৪টি কক্ষের একটি পাকা বাড়ি। নিজে বাজাজ ব্যান্ডের ডিসকভারি (১২৫) সিসি মোটরসাইকেলে চলাফেরা করেন। কবিরাজ হওয়ার পর মাঠে ক্রয় করেছেন ৪/৫ বিঘা জমি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমেনা ও বিল্লাল দিনের অধিকাংশ সময় জ্বিনের ভারণে বসে দোয়া তাবিজ ও অপচিকিৎসায় ব্যস্ত থাকেন। সবচেয়ে বেশি টাকা হাতিয়ে নেন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি ও বিচ্ছেদসহ নানা রোগের দোয়া তদবির দিয়ে। তাদের খপ্পড়ে পড়ে সহজ সরল মানুষ তাদের কাছে ছুটছেন। আর প্রতারিত হয়ে বাড়ি ফিরছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।