যশোর সদর উপজেলা উপনির্বাচন কেন প্রার্থী হতে চান?

যশোর সদর উপজেলার তফসিল ঘোষণার পরপরই তৎপর হয়ে উঠেছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক আওয়ামী লীগ নেতারা। কেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান এ বিষয়টি পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক মিরাজুল কবির টিটো

ভালো কিছু করতে চান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী

যশোর সদর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দিকে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে  উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উপজেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবো। সেই সাথে উপজেলায় ভালো কাজ করবো।

মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন তিন যুগের বেশি সময় রাজনীতির সাথে আছি। মৃত্যুর না হওয়া পর্যন্ত এর সাথে থাকবো। ১৯৮০ সালে ছাত্রলীগ করার মধ্যদিয়ে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হই। ১৯৮৬ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলাম। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক , ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব পালন করি। এরপর ১৯৯৫ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৩ সালে সভাপতি নির্বাচিত  হয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলাম। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হলে কেন্দ্রীয় কমিটি আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দিয়েছে। এখন সময় এসেছে দলের কাছে কিছু চাওয়ার। তাই সদর উপজেলার উপনির্বাচনে দলের কাছে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উপর অমার আস্থা আছে। পুরাতন ও ত্যাগী নেতা  হিসেবে আমাকে মূল্যয়ন করবেন। আর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যদি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। তাহলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবো ইনশাল্লাহ। সেই সাথে  জনগণের খেদমত করবো। উপজেলার কোন সুযোগ সুবিধা থেকে উপজেলাবাসীকে বঞ্চিত করা হবে না। আগের দায়িত্ব প্রাপ্তরা যা করেছেন। তার চেয়ে অনেক ভালো করা হবে।

উপজেলাবাসীকে সঠিক সেবা দেয়ার লক্ষ্য মেহেদী হাসান মিন্টুর

যশোর সদর উপজেলাবাসীকে সঠিক সেবা দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন  করতে চান যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু। তিনি বলেন ‘নির্বাচিত হলে  উপজেলাবাসীকে সেবা দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গড়ার ভিশন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ করবো।’

তিনি আরো বলেন ‘১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে  সম্পৃক্ত হই। ওই সময় সদরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৮৭ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের সভাপতি দায়িত্ব পাই। এরপর ১৯৯৩ সালে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৪ সালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করি। শুধু তাই নয় ২০১৭ সালে সর্বাধিক ভোট পেয়ে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি চারবার সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। ১৯৯০ সালে সৈ¦রশাসন , পরবর্তী জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে, ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার মুক্তির আনোলন করি। বর্তমানে ড. রওশন আলী কলেজ ও মীরাপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি মাঠ পয়ায়ে রাজনীতি করি। করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে যখন দলের কোন নেতা কর্মী বাড়ি থেকে বের হননি ওই সময় আমি অসহায়, দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। যশোর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাবিল আহমেদের পক্ষে ও নিজ উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এখনও ত্রাণ সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি। তাহলে মানুষকে আরো বেশি বেশি সেবা প্রদান করবো। এর আগে উপজেলায় যা হয়েছে সেটা আর হবে না। উন্নয়নের দিক দিয়ে অন্য উপজেলার চেয়ে সদর উপজেলা এগিয়ে নেয়া হবে। আর যদি দল আমাকে বাদে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়। তাহলে দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন করবো।’