উপশহর ফাঁড়িতে প্রতিবন্ধীকে আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্রতিবন্ধী যুবক সুমনকে দুই দিন আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে যশোর উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  এসআই সাইফুল মালেকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সাংবাদিকরা জেনে যাওয়ায়  আটককৃত যুবকের মা ও বউকে গালিগালাজ করেছেন ক্ষিপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা। পাশাপাশি সুমনকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। সুমন সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।

স¦জনরা জানিয়েছেন, সুমন হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে চুড়ামনকাটি বাজারে আসেন। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আকস্মিকভাবে ধরে নিয়ে যান। খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলাতে ব্যর্থ হন পরিবারের লোকজন। এদিকে বুধবার সকালে তারা জানতে পারেন সুমনকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন ফাঁড়িতে গিয়ে সুমনের সাথে কথা বলেও আসেন। পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেনো তাকে আটকে রাখা হয়েছে। দুপুরের দিকে ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল মালেক ফোন করে জানান, ২০ হাজার টাকা দিয়ে সুমনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। স্বজনরা আরো জানান, ২০ হাজার টাকা দাবি করার বিষয়টি জেনে যান সাংবাদিকরা। দুইজন সাংবাদিক মুঠোফোনে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চান। এতে তিনি বেজায়ভাবে চটেছেন। বুধবার রাতে টাকা নিয়ে সুমনকে ছাড়াতে ফাঁড়িতে যান তার মা ও স্ত্রী। তাদের দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন এসআই সাইফুল মালেক। এসময় সুমনকে না ছেড়ে তার মা ও বউকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এই বিষয়ে এসআই সাইফুল মালেক জানিয়েছেন, সাতমাইল বাজার থেকে সিআইডি পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সন্দিগ্ধ হিসেবে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের নামে দুই দিন আটকে রেখে টাকা দাবি করার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।