ডুমুরিয়ায় তিন বছর পর গৃহবধূর জমি পুনঃউদ্ধার

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের হতদরিদ্র গৃহবধূ খাদিজা বেগম প্রায় তিন বছর পর নিজের জমি প্রভাবশালীদের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বুধবার তিনি তার জমিতে টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে তার জমি পুনঃউদ্ধার করেছেন।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস শেখ প্রায় তিন বছর আগে বসবাসের জন্যে অনেক কষ্ট করে স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে একই গ্রামের রুহুল আমিন বিশ্বাস, ফারুক হোসেন বিশ্বাস ও ছকিনা খাতুনের  কাছ থেকে কুলবাড়িয়া বরাতিয়া মৌজা, জে,এল নম্বর ৮৯, খতিয়ান নম্বর এস,এ ১৩২৮, আর,এস ৩০৪১, দাগ নম্বর ২৮৭৬,৩০৪৮ মোট ০.২৩৫০ একর জমি রেজিষ্ট্রি কবলা মূলে খরিদ করেন। পরে তার নিজ নামে নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখলে যান। কিন্ত এলাকার প্রভাবশালী হায়দার আলী গোলদার ও আতিয়ার গোলদার, খাদিজা বেগমের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগ দখলে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে কুদ্দুস শেখ ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্মরণাপন্ন হয়ে তাদের ক্রয়কৃত জমি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধারের দাবি জানান। কিন্ত হায়দার আলী ও তার সহযোগীরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুরোধ উপেক্ষা করেন।

এক পর্যায়ে চলতি মাসের গত ৪ তারিখে সেই জমিতে বেগুনের চারা রোপণ করতে গেলে হায়দার আলী ও আতিয়ার রহমানের সহযোগীরা কুদ্দুস শেখ এবং তার শ্রমিকদের উপর হামলা করে বেদম মারপিট করে। ওই মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ হতে ডুমুরিয়ায় থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়।  হায়দার আলীর দায়ের করা মামলার ঘটনায় কুদ্দুস শেখ ও তার অন্যান্য সহযোগীরা আদালত হতে জামিনে মুক্ত থাকলেও কুদ্দুস শেখের দায়েরকৃত মামলায় হায়দার গোলদার ও আতিয়ার গোলদার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষক কুদ্দুস শেখ ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের পক্ষে গ্রামের অর্ধশত লোক সতঃস্ফূর্র্তভাবে ঘর নির্মাণের কাজে সহযোগিতা করছেন। নির্মাণকাজে অংশগ্রহণকারী লিটন সরদার, জবেদ আলী গাজী, মোঃ জুয়েলসহ আরো অনেকে জানান, ক্রয় সূত্রে এই জমির রেকডিয় মালিক খাদিজা বেগম। অথচ কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও  হায়দার আলী ও তার সহযোগীরা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে জমি ভোগ দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে জমির পূর্বের মালিক রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, আমার বিক্রয়কৃত এই জমিটা মৌখিকভাবে হায়াদার আলী গংদের সাথে এওয়াজ বদলের বিনিময়ে ভোগ দখল করে আসছিলাম। কিন্ত আমাদের ভোগ দখলীয় জমি হায়দার আলীরা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ায় জমির ক্রেতা দাগ খতিয়ান অনুযায়ী জমি দখলে নেয়ায় আমারও আমাদের মূল জমি দখলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় দায়ের হওয়া মামলা দুটির তদন্তকারী  পুলিশ কর্মকর্তা এসআই  মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।