পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারিতে যশোর  ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

 

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করা নানা ধরণের অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য গোয়েন্দাদের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতালের দুটি গেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে নানা ধরণের অপরাধীদের অবাধ বিচরণ শুরু হয়েছে। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন কর্ণারে  মাদকের আড্ডা বসাচ্ছে। আবার হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অপরাধীদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে ব্লাড ব্যাংক ও প্যাথলজি বিভাগ থেকে চাঁদাবাজি করছেন। তাদের অত্যাচারে দায়িত্বরতরা কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে রক্তের ক্রস মেচিং করতে বাধ্য করছেন। আবার নগদ টাকাও নিচ্ছে। প্রতিবাদ করায় সেখানে দায়িত্বশীলদের জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বহিরাগত সাদ্দাম ও সুজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, হাসপাতালে প্রবেশের জন্য মোট তিনটি গেট রয়েছে। অপরাধীরা বিভিন্ন কাজে মাঝখানের গেটটি বাদে অন্য দুটি গেট দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। ওই গেট দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এতে সরকারি হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান,  হাসপাতালকে ঘিরে অপরাধীদের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করে একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে। এই অপরাধীদের দমনে সম্প্রতি পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা নজরদারি শুরু করেছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক আরো জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরামর্শে হাসপাতালের প্রধান গেট বাদে বাকি দুটো গেট দুপুর আড়াইটার পর থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্তে গোয়েন্দা সদস্যরা বিভিন্ন সময় হাসপাতালে অবস্থান করছেন।