অবশেষে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে সেই কার্পেটিং


জামির হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :
হাত দিয়ে টানলে উঠে যাওয়া সেই কার্পেটিং সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। নির্মাণের ৯দিনের মাথায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্দেশে রাস্তার কার্পেটিং উঠিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদার।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলায় ১৯ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণকালে কার্পেটিং খসে খসে পড়ছিল। এলাকাবাসী হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছিল কার্পেটিং। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর নড়ে চড়ে বসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, দুদকসহ সরকারের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত নির্মাণের ৯ দিনের মাথায় সেই রাস্তাটির কার্পেটিং ভেকু গাড়ি দিয়ে তুলে ফেলা হচ্ছে।
গত বুধবার রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুস সাদাত বলেন, গণমাধ্যমে রাস্তার নির্মাণে অনিয়মের খবর দেখেই তারা পরিদর্শনে এসেছেন। সড়কটিতে অতি নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই পিচ উঠে যাচ্ছে। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এমন অনিয়মের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
সড়কটিতে কাজের দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন নির্মাণে ত্রুটির কথা স্বীকার করে জানান, সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনঃমেরামত করতে বাধ্য হবেন। পরে এমন সমস্যার খবর পেয়ে ঘঁটনাস্থলে আসেন ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার। তিনিও নির্মাণে ত্রুটির কথা স্বীকার করে রাস্তার ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলি তুলে পূনরায় রাস্তা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়ে যান। সে মাতাবেকই ওই রাস্তার কার্পেটিং ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে নেবার কাজটি শুক্রবার পর্ষন্ত চলমান রয়েছে।
ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়ার দাবি, রাস্তার কাজে কোনো নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়নি। উঠে যাওয়া ওই স্থানটিতে টিউবওয়েলের পানি ছাড়াও কাজের সময় বৃষ্টি আসাতে এমন সমস্যা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সব রাস্তা ঠিক করে দেবার জন্যই কার্পেটিং তুলে নিচ্ছেন।
কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ঝিনাইদহের ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এ রাস্তার মজবুতিসহ ওয়ারিং এর কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নীমতলা বাস স্টান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিং এর কাজ শুরু করে। ৪ থেকে ৫ দিনে তিন কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করেছিল। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে যায়। এছাড়া কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।