আমার বাবা শেখ আকিজ উদ্দিন সততা আর কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শ্রমিক থেকে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি হয়েছিলেন: শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, আমার বাবা শেখ আকিজ উদ্দিন একজন শ্রমিক ছিলেন। তিনি তার জীবনের প্রথমাংশে শ্রমিক জীবন বরণ করে কায়িক  পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদেরকে মানুষ করেছেন। তিনি খুলনা থেকে শিয়ালদাহ ট্রেনে গলায় ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেছেন। কোনো ধনীর অট্টালিকায় আমরা জন্মগ্রহণ করেনি। আমরা জন্মেছি মাটির ঘরে। তাই মাটির স্বাদ, গন্ধ আমরা বুঝি। শ্রমিকের কষ্ট আমরা বুঝি। আর একথা আমরা বুঝি, মরহুম আকিজ উদ্দিন একজন শ্রমিক থেকে মৃত্যুর পূর্বমূহূর্ত পর্যন্ত কিভাবে দেশের প্রথমসারির বরেণ্য শিল্পপতি হয়েছিলেন। যতটুকু বুঝেছি, তার একমাত্র পুঁজি ছিল সততা। আমার বাবা শেখ আকিজ উদ্দিন তার সততা আর কায়িক পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে একজন শ্রমিক থেকে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি হয়েছিলেন।

সোমবার বেলা ১১ টায় যশোর আন্তজেলা ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্টেশন প্রাপ্ত অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

বেনাপোল বন্দরের ১নম্বর গেটের অপরপাশে যশোর আন্তজেলা ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন (খুলনা-২৪০৬)’র সভাপতি আলহাজ মনিরুজ্জামান ঘেনার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন, আমার বাবা শ্রমিক ছিলেন তাই তিনি শ্রমিকের কল্যাণের জন্য যুগে যুগে বহু মিল ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করেছিলেন আর সেখানে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। শ্রমিকের মূল্যায়ন করেছেন। আমরাও জীবনের শুরু থেকে বাবার কায়িক পরিশ্রম দেখেছি এবং বাবার দেখানো পথে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও তাদের যোগ্য সম্মান দিতে শিখেছি। যার বাস্তব উদাহরণ বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক ভাইয়েরা। এক সময়ে বেনাপোল বন্দরের শ্রমিকরা রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতাদের দ্বারা  নিষ্পেষিত হতো, ন্যায্য মজুরি না পেয়ে তারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় বন্দরের লোড-আনলোডকৃত চাল, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য চুরি করে সংসার চালাতেন, এখন আর তাদেরকে চুরি করতে হয়না। বেনাপোল বন্দরের একটি শ্রমিকও এখন আমদানিকারকদের আমানত খেয়ানত করেন না। কারণ, দিনশেষে তারা ৭শ’ থেকে ১হাজার টাকা উপার্জন করছেন। এর একটি মাত্র কারণ, আমি তাদের সঠিক নেতা নির্বাচন করে দিয়েছি। কোনো জুলুমবাজ, চাঁদাবাজ যাতে শ্রমিকদের কায়িক পরিশ্রমের একটি টাকাও মেরে খেতে না পারে, কোনো নেতার পকেটে যাতে একটি পয়সাও না যায়, আমি তার যথাযথ ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এসাথে সাবধান করে দিয়েছি যাতে বন্দরে রক্ষিত আমদানিকারকদের বহু কষ্টের ফসল চুরি না হয় এবং শ্রমিক নেতাসহ কোনো রাজনৈতিক নেতার দ্বারা কোনো শ্রমিক লাঞ্চিত, নিষ্পেষিত বা কায়িক পরিশ্রমের টাকা কম না পায়।

এ সময় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন এমপি “যশোর আন্তঃজেলা ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন” শুভ উদ্বোধন ঘোষণা ও পর্যায়ক্রমে সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, মেহনতি মানুষের একমাত্র আস্থার ঠিকানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে সমগ্র বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শিখেছি জুলুমবাজদের অত্যাচার রুখে দিতে, আমরা শিখেছি স্বাধীনতা অর্জন। যার মাইলফলক অর্জন যশোর আন্তজেলা ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন’র নতুন রেজিস্ট্রেশন। পরাধীনতার শিকল কেটে অত্র সংগঠনের বিপ্লবী সভাপতি মনিরুজ্জামান ঘেনা, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম ও আবু সাঈদের অব্যর্থ চেষ্টা, কায়িক পরিশ্রম ও মনোবল এলাকার শ্রমিকদের জন্য নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচন করল বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  তিনি বলেন, আজ থেকে বেনাপোল-শার্শা-বাগআঁচড়া এলাকার মটর শ্রমিকরা মুক্ত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, ঝিকরগাছা-শার্শা-বেনাপোল ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ শামছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মহাতাব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আকবার আলী, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দূর্জয়, নার্গিস পারভীন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবল হোসেন রাসেল, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বজলুর রহমান, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন জোয়াদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহমেদ, কলি মুল্লাহ, “যশোর আন্তজেলা ট্রাক-ট্রাক্টর, কভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন”র নেতা আব্দুল হাকিম, জুম্মান হোসেন, জিল্লুর রহমান, জসিম উদ্দিন, কবির হোসেন, আসাদুজ্জামান, আব্দুর রহমান কালু, আব্দুর রহিম, আয়াকুব আলী, লুৎফর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তবিবর রহমান, নূর মোহাম্মদ নুরু প্রমুখ।