খুলনার ক্রিকেটার কাজলকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা জেলা দলের অধিনায়ক ও খুলনা তরুণ একাডেমির কোচ কাজী রিয়াজুল ইসলাম কাজলকে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্ত্রীসহ ৫ জনকে আসামি করে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের মা খুলনা খালিশপুর চরেরহাট এলাকার মৃত কাজী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন অভিযোগটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা,  হলে অগ্রগতিসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলো, নিহতের স্ত্রী যশোর শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার সুমি, শ্বশুর আমজাদ হোসেন, শ্বাশুড়ি মায়া বেগম, বারান্দীপাড়ার মজিদ ড্রাইভারের মেয়ে মণি বেগম ও খুলনা খালিশপুর হালদারপাড়া ১ নম্বর নেভি গেটের কানা সামসুর ছেলে জাহিদুল ইসলাম সবুজ।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কাজলের সাথে সাড়ে ছয় বছর আগে আফরিনা আক্তার সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাঝে মধ্যে সুমি খুলনায় কাজলের বাড়িতে যেতেন তবে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এর মাঝে তাদের একটা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সুমির সাথে আসামি সবুজের দুই বছর আগে পরিচয় হয়। এরপর সবুজের মদদে কাজল তার স্ত্রীকে আলাদা ভাবে ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। বয়রায় কাজলের একটা খেলাধুলা সামগ্রী বিক্রয়কেন্দ্র আছে। সবুজর মাঝে মধ্যে খেলাধুলার জন্য বাইরে থাকায় ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিলো সুমি ও সবুজের। বিষয়টি কাজলের মা জানতে পেরে প্রতিবাদ শুরু করেন। এরপর চলতি বছরের ২৬ মে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে কাজলকে যশোরে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে এবং কাজলের বিভিন্ন লেনদেন সম্পর্কে তারা আলোচনা করেন এবং কাজলের কাছে ৫০ লাখ টাকা আছে মর্মে আসামিরা জানতে পারে। ২৮ মে ভোর চারটায় অপরিচিত মোবাইল ফোনে বাদীকে জানানো হয় কাজল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। পরে আসামিরা সকলে বাদীকে জানায় তারা থানায় আছে। কাজলের মা যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে চাইলে আসামিরা জানায়, কাজল ব্রেনস্ট্রোক করে মারা গেছে। কাজলের লাশ নিয়ে তারা খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। এরপর খুলনায় যেয়ে আসামিরা জানায় কাজল করোনায় মারা গেছে। পরে কাজলের দাফন সম্পন্ন করা হয়। কাজলের মৃত্যুর ব্যাপারে তার মার সন্দেহ হওয়ায় তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন পরিকল্পিতভাবে আসামিরা কাজলকে হত্যা করেছে। সাক্ষী প্রমাণ যোগাড় করে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।