ঝিকরগাছায় এসিল্যান্ডকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুইজন অভিযুক্ত

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা  : যশোরের ঝিকরগাছায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসানকে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবব্রত দাস এ চার্জশিট প্রদান করেন। চার্জশিটে মামলার প্রধান দুই আসামি সুব্রত দাস ওরফে অমিত (২৫) ও আব্দুল্লাহ আল শাকিলকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে ঐ ঘটনায় একই নম্বরের দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও মোটরসাইকেলের মালিক এখনও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, করোনাকালে সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দায়িত্ব পালনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসান মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারাত্মক জখম হন।  এ ঘটনায় জড়িতদের ব্যবহৃত একই নাম্বারের ২টি  মোটরসাইকেল পুলিশ উদ্ধার করে। ঐ দুটি মোটরসাইকেলের রেজিষ্টেশন নম্বর (যশোর-ল-১১-২৩৩৫) ভূয়া বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে একই নম্বরের দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ মোটরসাইকেল মালিক শনাক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারী শাহাজালাল বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি  সুব্রত দাস ওরফে অমিত (২৫) ও আব্দুল্লাহ আল শাকিল (২৩) কে আটক করে। আদালত আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবব্রত দাস সোমবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন। চার্জশিটে মামলার প্রধান দুই আসামি সুব্রত দাস ওরফে অমিত (২৫) ও আব্দুল্লাহ আল শাকিলকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।  তবে একই নম্বরের দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ বিকালে চলমান করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ঝিকরগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসান যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বেনেয়ালী, গদখালী এলাকায় নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল, লাইসেন্স বিহীন চালক, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। এ সময় দ্রুত গতির ওই (যশোর-ল-১১-২৩৩৫) মোটরসাইকেলের চালক সুব্রত দাস ওরফে অতিম ও সাথে থাকা আব্দুল্লাহ আল শাকিল তার সিগনাল অমান্য করে এবং মোটরসাইকেলের গতি না কমিয়ে ডা. কাজী নাজিব হাসানকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারাত্মক আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দূর্ঘটনায় তার ডান পায়ের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে যায় এবং কলারবোনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যশোর পঙ্গু হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  পরে তাকে  ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ডা. কাজী নাজিব হাসানকে ইয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তিনি জানান, আল্লাহু রাব্বুল আল-আমিন কোনোভাবে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। পায়ের ভেতরে রড দেয়া আছে। দুই বছর পরে আরো একটি অপারেশন করতে হবে। এখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে হচ্ছে। তিনি মামলার ব্যাপারে বলেন, আমি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে দুঘর্টনার শিকার হয়েছি। ফলে এ মামলার বিষয়টি আমার উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন। আমি অবশ্যই ন্যায় বিচার পাবো বলে প্রত্যাশা করি।