বিশ্বাস করি ভোটাররা সভাপতি হিসেবে আমাকেই বেছে নেবেন : মানিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে কখনোই আসেননি শফিকুল ইসলাম মানিক। সাবেক এ ফুটবলার এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় কোচ। বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা মানিক এবার নির্বাচন করছেন বাফুফেতে এবং সবচেয়ে বড় সভাপতি পদে। বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে আগে কখনো ছিলেন না। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী মো. সালাউদ্দিন ও বাদল রায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বাফুফেতে আছেন। তিনি নতুন বলেই ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন একবার সুযোগ দিয়ে তাকে পরীক্ষা করতে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সাবেক এ ফুটবলার। সেখানে তিনি দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য ২১ দফা ঘোষণা করেছেন। ইশতেহার ঘোষণা করে শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘অনেকে বলছেন, আমি একা। আসলে তা নয়। আমার সঙ্গে অনেক কাউন্সিলর আছেন। আমি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে কাউকে আমন্ত্রণ জানাইনি। আমি শুধু গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আমার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।’

বাফুফেতে নির্বাচন করার পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘অনেক দিন ধরে একজন সভাপতি নির্বাচন করবে ঘোষণা দিয়েও করেননি। আরেকজনও ঘোষণা দিয়ে করেননি। আমি কয়েকজনকে অনুরোধও করেছিলাম সভাপতি পদে নির্বাচন করতে। কেউ সাহস পাননি। এটা তো হতে পারে না। তাই আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো। আমার একটা নীতি আছে। তাই সরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

নিজেকে যোগ্য উল্লেখ করে সাবেক এ ফুটবলার বলেন, ‘চেয়ারের মূল্য কি তা আমি জানি। নরম চেয়ার, গরম চেয়ার। আমি কোচ। কোচদের সবসময় গরম চেয়ারে বসতে হয়। বাফুফের সভাপতি চেয়ারে না বসতে পারলে ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করা সম্ভব না। আমি অন্য দুইজনের চেয়ে বয়সে বেশি ছোটও না। আমি জানি কিভাবে ফুটবলের উন্নয়ন করতে হবে। বাফুফের ২১ সদস্যের নির্বাহী কমিটির সবাই এক মন নিয়ে কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। নির্বাচিত হতে পারলে একটি দল হয়ে কাজ করে ফুটবলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো।’

জেলার ফুটবল, ঢাকার পাইওনিয়ার থেকে শুরু করে প্রথম বিভাগ ফুটবলকে অগ্রাধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলকে অগ্রাধিকার, আন্তঃস্কুল, অন্তঃকলেজ ফুটবলে নজরদারি তৈরি, প্রতিটি ক্লাবের অনুশীলন মাঠ, জাতীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গবন্ধু কাপ প্রতিবছর আয়োজন, অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় ফুটবলের নামকরণ শেখ জামালের নামে, অনূর্ধ্ব-১৯ সোহরাওয়ার্দী কাপ, শের-ই-বাংলা কাপ পূনরায় চালু, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আরো আকর্ষণীয় করার ওপর ইশতেহারে জোর দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম মানিক।

বিগত দিনগুলোতে ফিফা র্যাংকিং ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। ইশতেহারে শফিকুল ইসলাম মানিক ১২ বছর আগে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ যেখানে ছিল সেখানে নেয়া এবং তার চেয়ে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় দলকে পরিচালনার কথা বলেছেন। নারী ফুটবলের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়া জাতীয় দল ভালো অবস্থানে নেই উল্লেখ করে এই সভাপতি প্রার্থী বলেছেন, ‘নারী জাতীয় দলের পারফরম্যান্স উন্নতির জন্য কাজ করা হবে। সে জন্য মহিলা সংগঠকও বৃদ্ধি করা হবে।’

ইশতেহার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন শফিকুল ইসলাম মানিক। গ্রাসরুট লেভেলে ফুটবল উন্নয়নে গঠন করবেন ৭ সদস্যের রিচার্স সেল। যেখানে জাতীয় কোচ, ডাক্তার, সাইকোলজিস্ট, ফিজিওলজিস্ট ও আইটি বিশেষজ্ঞগন থাকবেন।

তার ইশতেহার পর্যালোচনা করে এবং দুই প্রতিপক্ষের পূর্বের কাজ মূল্যায়ন করে ভোটাররা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন তাহলে তাকেই বেছেন নেবেন বলে বিশ্বাস এই সাবেক তারকা ফুটবলারের। তিনি বলেছেন, ‘পরিবর্তন শুধু সভাপতি পদে নয়, পরিবর্তন প্রয়োজন কাজের। সেই কাজকে সফলতায় রূপ দিতে প্রয়োজন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।’