স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি ভোলা : ভোলায় স্ত্রী শাহানাজ ও কন্যাশিশু মোহনাকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. বেলাল হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এ.বি.এম মাহামুদুল হক এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশরাফ হোসেন লাভু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেন পাটোয়ারী র্দীঘদিন ধরে ঢাকায় ড্রাইভারের চাকরি করতেন। মাঝে মধ্যে তিনি গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম জয়নগরের ২ নং ওয়ার্ডে যাওয়া আসা করতেন। তিনি মেহেদী (৭) ও মোহনা (১) নামে দুই সন্তানের জনক। ঢাকায় চাকরি করার সময় একটি মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেন বেলাল। তবে শাহানাজকে বিয়ের আগে ওই মেয়েকে তালাক দেন। পরে আবারও ঢাকার ওই মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি শাহানাজের কাছে ধরা পড়ে যায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলতে থাকে। যে কারণে স্ত্রী শাহানাজকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন বেলাল।

গত ২০১৭ সালের ২ জুন রাত ২টার দিকে বেলাল তার স্ত্রী শাহানাজকে ঘুমের মধ্যে মুখ চেপে ধরে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে ঘটনা অন্যখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে তাতে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। ওই সময় স্থানীয়রা আগুন লেগেছে বলে চিৎকার শুরু করলে বেলাল ঘরের ভেতর কিছুক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করে বড় ছেলে মেহেদীকে নিয়ে ঘরে হতে বের হয়ে পুকুর পাড়ে অজ্ঞান হওয়ার ভান করে শুয়ে পড়েন।

এদিকে বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম মাস খানেক ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে রাজি না হচ্ছিল না। ২০১৭ সালের ২ জুন রাতে স্ত্রী শাহানাজকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোর করলে স্ত্রী রাজি না হওয়ায় বিছানার নিচে থাকা ছোট চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। এতে গলা থেকে রক্ত বের হয়ে স্ত্রী শাহানাজের মৃত্যু হয়। পরে তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য স্ত্রীকে কম্বলে পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে লাফিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়েন। আগুনে স্ত্রী ও তার মেয়ে মোহনা পুড়ে মারা যায়। এ ঘটনা তিনি একাই ঘটিয়েছেন বলে জবানবন্দি দেন।