যশোরে বোমা ফাটিয়ে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত ৮/৯জন

নিজস্ব প্রতিবেদক  : যশোর শহরের এমকে রোডস্থ ইউসিবিএল ব্যাংকের সামনে বোমা ফাটিয়ে ব্যবসায়ীর সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সাথে যুক্ত তা পুলিশ চিহ্নিত করেছে। এ ঘটনা সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে ৪/৫জনকে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত চাকুটি ও ব্যাগ জব্দ হয়েছে। এমনকি ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকা উদ্ধারও হয়েছে এমন সংবাদ শোনা গেছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কিছু নিশ্চিত করা হচ্ছে না। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন না।

তবে সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক তুষার কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তিনি মামলাটির তদন্ত করছেন। আর কারা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত তা চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে আসামি আটক বা টাকা উদ্ধারের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ইউসিবিএল ব্যাংকের সিঁড়িতে উঠার মুহূর্তে বোমা হামলা ও ফল ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের ভাই এনামুল হককে ছুরিকাঘাত করে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার পর থেকে বুধবার সারাদিন কোতয়ালি থানা, সদর এবং চাঁচড়া ফাঁড়ি, ডিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা চারিদিকে অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরতলীর মুড়লী এলাকা থেকে সুজন নামে এক যুবককে আটকের গুঞ্জন ওঠে। আবার রাতে শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন, বুধবার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের বাড়ি থেকে তার ভাগ্নে সোহাগকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে বাঘারপাড়া থানা, ভিটাবল্লা পুলিশ ক্যাম্প, কোতয়ালি থানা, বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্প এবং র‌্যাবের সমন্বয়ে আলাদীপুরে অভিযানে সোহাগকে আটক করা হয়। আটক সোহাগের বাড়ি যশোর শহরের শংকরপুরে বলে জানা গেছে। এছাড়া সোহেল নামেও আরেক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আটক একজনের কাছ থেকে ছিনতাই করা টাকার ব্যাগ ও এনামুলকে ছুরিকাঘাত করা ছুরি উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইলের সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়া কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু যাদের আটক করা হয়েছে তারা আশপাশে অবস্থান নিয়েছিল। আবার যারা সরাসরি এ ঘটনায় অংশ নেয় তাদের সেল্টার ও পরামর্শ দাতাদের কেউকেউ আটক হয়েছে।  ফলে আটককৃতদের কাছ থেকে ঘটনায় সরাসরি যারা অংশ নিয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে আহত এনামুল হককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে খুলনার গাজী সার্জিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বুধবার সকালে আহত এনামুল হকের ভাই ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

এই ব্যাপারে সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুষার কুমার মন্ডল বলেছেন, কারা এ ঘটনার নেপথ্যে ছিল এবং কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি অপরাধীদের আটক করা হবে।

তবে কোতয়ালি থানার কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে হোয়াটস অ্যাপ ম্যাসেঞ্জারে আরাফাত নামে এক যুবকের ছবি পাঠানো হয়েছে। এ ছবি সম্পর্কে তুষার মন্ডল জানিয়েছেন, আরাফাত নামে একজনকে সন্দেহ করা হয়েছে। তাকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছবি পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত শহরের বকচর হুশতলা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং আরএন রোড এলাকার আগমনী মোটরস এ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স এবং মণিহার এলাকার আরআই এন্টারপ্রাইজের মালিক ইকবাল হোসেনের ভাই এনামুল হক (৩৫) ও একই এলাকার ইমদাদুল হক ওরফে ইমদাদুলের ছেলে ইমন (২০)।

ছিনতাইকারীরা পালানোর জন্য কখন কোন রাস্তা ব্যবহার করেছে তা শনাক্ত করেছে পুলিশ। একজন মিডটাউন হোটেলের পাশ দিয়ে মাড়ুয়াড়ি মন্দিরের সামনের রাস্তা ব্যবহার করে। অপর কয়েকজন সিটি প্লাজার সামনে দিয়ে দৌড়ে পালায়।