৩০ মিনিট ব্যবস্থাপত্র আটকে রেখে সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ মেটালেন ডা. জান্নাত

বি এইচ মোহাম্মদ : “আমি মনে মনে ভাবতাম কবে আপনাকে সিসিইউতে পাবো। পেয়েও গেলাম। রোগী এনেছেন তাইতো। আমি চিকিৎসা দেবো, কিন্তু দেরি হবে। কারণ রোগীটা আপনার । আর আপনি রোগী হলেতো দেখতাম না। বাইরে যান অপেক্ষা করেন”। মঙ্গলবার রাতে দৈনিক স্পন্দনের নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেনের সাথে এমন আচরণ করেছেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) দায়িত্বরত অনারারী চিকিৎসক জান্নাত রিধি। এমনকি তিনি ঘোষণা দিয়েই রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ৩০ মিনিটের বেশি সময় ব্যবস্থাপত্র (টিকিট) আটকে রাখেন। বার বার অনুরোধ করার পর তিনি ব্যবস্থাপত্র দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, আমার এক নিকটাত্মীয় অসুস্থ হয়ে মঙ্গলবার রাত ১০ টা ২০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। চিকিৎসক আহমেদ তারেক শামস তাকে ভর্তি করে সিসিইউতে পাঠান। সেখানে আনার পর ১০ টা ২৪ মিনিটে রোগীকে দেখে কক্ষে চলে যান দায়িত্বরত অনারারী চিকিৎসক জান্নাত রিধি। পরে ভর্তি টিকিট (ব্যবস্থাপত্র) পাঠানো হয় তার কাছে। কিন্তু তিনি রোগীর ব্যবস্থাপত্র না লিখে ওষুধ কোম্পানির ২ জন প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাত করছিলেন। এ সময় আমি কক্ষের মধ্যে গিয়ে বলি ম্যাডাম ব্যবস্থাপত্রটা দিয়ে দেন। রোগীর অবস্থা খারাপ মনে হচ্ছে। আমাকে দেখেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। উল্লিখিত কথাগুলো ছাড়াও ডা. রিধি একনাগাড়ে বলতে থাকেন মুখে মাস্ক পরলেও আমি আপনাকে ঠিকই চিনেছি সাংবাদিক। আমাকে চিনেছেন তো? না বললেই তিনি নিজের মুখ থেকে মাস্ক সরিয়ে বলেন এবার চিনেছেন!

সাংবাদিক বিল্লাল আরো জানান, তখন আমি জানতে চাই এমন করে বলছেন কেনো ম্যাডাম। আমার সাথে আপনার কোনো শত্রুতা আছে। জবাবে বলেন কেনো মনে করতে পারছেন না পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ঘটনাটি। আপনি একজন রোগীর চিকিৎসা দেয়া নিয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। তখন আমি বলি ম্যাডাম আপনার মনে হয় ভুল হচ্ছে। আপনার সাথে সার্জারি ওয়ার্ডে এমন ঘটনা কখনো ঘটেছে বলে মনে করতে পারছি না। ডা. রিধি বলেন মনে করে দেখেন খারাপ ব্যবহার করার কিছুক্ষণ পর সেখানে মনিরুজ্জামান লর্ড স্যার গিয়েছিলেন। আমি বলি ম্যাডাম আমার ঠিক মনে পড়ছে না। আপনি রোগীর ব্যবস্থাপত্রটা দেন। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা হবে।

তখন তিনি বলেন ব্যবস্থাপত্র দিতে দেরি হবে, আপনি বাইরে যান। তখন বেরিয়ে আসি। অপেক্ষায় থাকি চিকিৎসকের কক্ষের দরজার সামনে। ঘড়ির কাটা তখন ১০ টা ৫০ মিনিট। আমি ফের চিকিৎসকরে কক্ষে গিয়ে জানতে চাই ব্যবস্থাপত্রটা হয়েছে কিনা। তিনি বললেন হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেবো না। আমি বললাম কেনো দেবেন  না। ব্যবস্থাপত্রটা দেন অন্তত ওষুধগুলো কিনতে যাই। তিনি তখনও ব্যবস্থাপত্র আটকে রেখে বলেন দেখছেন না অন্য রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছি। এগুলো শেষ হোক একসাথে দেবো। অনেক কাকুতি মিনতির পর ১০ টা ৫৬ মিনিটে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বলেন শুধু আপনার কারণে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেরি করে দিলাম। তখন আমি বলি ম্যাডাম রোগীর সাথে আপনার শত্রুতা কি? আমাকে শত্রু মনে করে একজন রোগীর ব্যবস্থাপত্র আটকে রাখা কখনো ঠিক হয়নি। তখন অনারারী ডা. রিধি বলেন এই রোগীর জন্য এবার অন্য কোনো স্বজনকে পাঠাবেন। আপনি আর আমার কাছে আসবেন না। সাংবাদিক বিল্লাল আরো জানান, এ সময় আমি ওই চিকিৎসককে বলেছিলাম ম্যাডাম আপনার হয়তো ভুল হচ্ছে। আপনি মাথা ঠাণ্ডা করেন। আপনি এমন ব্যবহার করলে রোগী ও স্বজনরা কষ্ট পাবে। জবাবে বলেন আপনার মতো সাংবাদিকরা কতো ভালো ব্যবহার করতে পারে সেটা আমার জানা আছে। চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হয়ে বিষয়টি হাসপাতালের আরএমওকে জানানো হয়। সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন জানান, ডা. রিধির সাথে আগে কখনো আমার কথা হয়েছে কিনা ঠিক মনে নেই। তবে কখনো খারাপ ব্যবহার করিনি। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাতের সময় রোগীর ব্যবস্থাপত্র চাওয়ার কারণেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে একটা ঘটনার উদহারণ দিয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন। ঘোষণা দিয়ে তিনি রোগীর হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র আটকে রেখেছেন। রোগীর শ্বাসকষ্ট হলেও দেয়া হয়নি কোনো চিকিৎসা। জরুরি বিভাগ থেকে ভর্তির ৪৮ মিনিট পর রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়। ব্যবস্থাপত্র পেলে অনেক আগেই ওষুধ কিনে আনতে পারতাম। এই বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, অনারারী ডা. জান্নাত রিধির এমন আচরণের বিষয়টি রাতেই আমাকে জানানো হয়। আমি তার সাথে কথা বলেছি। তিনি ঘটনার পুরোটা স্বীকার করেননি। তবে ডা. রিধির হঠাৎ করে রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে। এই বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হবে।