যশোরে করোনা শনাক্ত ৩৯শ’ ছাড়ালো, সুস্থ ৩৪২৯

 

বিল্লাল হোসেন : যশোরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবারও ১ জন চিকিৎসকসহ নতুন করে আরও  ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯শ’ ছাড়ালো। শীতের শুরুতে (নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ) করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথেষ্ঠ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হয়। তাতে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৬ জন, শার্শা উপজেলায় ২ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। ডা. রেহেনেওয়াজ আরও জানান, এদিন সর্বোচ্চ ৩১৮ জনের করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। যবিপ্রবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন, জেনোম সেন্টারে যশোরের ১০ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ জনের শরীরে কোভিডের জীবাণু পাওয়া গেছে। আর নড়াইল জেলার ২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের করোনা পজিটিভ ও ৭০ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। যশোর জেলায় আক্রান্তরা হলেন, ডা. সাদিয়া জাহান (২৯), রেজাউল করিম (৬০), ইসমত জাহান (৩২), পুরন্দ রাহা (৬২), মেহেদি হাসান (৩৫), দেবদুলাল রায় (৪৮) কুমারেশ দত্ত (৫৫), সাইফুর জাম্মা (৪৫), শহীদুল্লাহ (৬০) ও শেখ ফজলুল করিম (৬০)। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার মোট ১৬৪৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য লাবে পাঠানো হয়েছে।  ফলাফল এসেছে ১৬০০০ জনের।  এরমধ্যে ৩৯০৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৩৪২৯ জন। এছাড়া ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা ও খুলনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৮ জন। সিভিল সার্জন আরো জানান, যশোরে করোনায় আক্রান্ত প্রতিদিন বাড়ছে। শীতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গত বছর শুরু হয়েছিলো শীতকালে (ডিসেম্বর মাস)। ওই সময় শীত প্রধান দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিলো। ফলে এবারও শীতকালে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে।  সেই আঙ্কায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করার  জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে যা যা করা দরকার তা আরো জোরদার করার জন্য নোটিশের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণকে সচেতনতায় ইতিমধ্যে মাঠকর্মীরা প্রচার জোরদার করেছেন। এছাড়া ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ নোটিশও জারি করা হয়েছে।  জনগণ সচেতন না হলে আগামীতে মাশুল গুণতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়া করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কোনোভাবে সম্ভব না। এজন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।  যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, যতদুর জেনেছি,শীতকালে করোনাভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে। করোনার প্রাদুর্ভাব না বাড়ে সেজন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, বাংলাদেশে যখন করোনা প্রবেশ করেছিলো তখন গরমকাল ছিলো। এরপরেও শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেক। সেই হিসেবে শীতে প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। যশোরে শীতের করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম বাড়িয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ কোথাও চলাচল করতে পারবে না। এ বিষয়ে নজর রাখবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলায় টিম গঠন করারও পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, করোনা প্রতিরোধ কমিটির আলোচনাসভার মাধ্যমে আরও নতুন নতুন প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।