মণিরামপুরে স্কুলের গাছের টেন্ডার নিয়ে উত্তেজনা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর : মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানমের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সন্দীপ ঘোষ ও সবুজ কর মারপিটের শিকার হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মণিরামপুর উজেলার শাহপুর সরাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের টেন্ডার ক্রয় করতে গেলে মারপিটের শিকার হন।

চালুয়াহাটী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক পান্না খান জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের ৩৭টি গাছের টেন্ডার ডাকা হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরীসহ সরকারী কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, দর ডাকার সময় একই দলের ১০ থেকে ১২ জন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম নয়নকে ছুরিকাঘাত করে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সন্দীপ ঘোষ এবং সবুজ কর নামে এক যুবককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মণিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎক ডা. জিসান জানান, আহত এ তিনজনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম জানান, তাদের কেবল মারপিট করা হয়নি, টেন্ডার ক্রয় করতে যাওয়া সন্দীপ এবং সবুজকে মারপিট করে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর বাহিনীর লোকজন নেক্কারজনক এ কাজটি করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে থাকা যুবলীগ নেতা পান্না খান জানান, মারামারি নয়, একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, যেহেতু ঘরের মধ্যে ছিলাম তাই বাইরের কোনো খবর বলতে পারবো না। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা সন্দীপ ও সবুজকে মারপিট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করনেনি। তবে দুপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে খবর পেয়েছি।