ট্রেন দুর্ঘটনায় নড়াইলের নিহতের দু’টি  পরিবারে চলছে শোকের মাতম

ফরহাদ খান, নড়াইল: চারিদিকে শুধু কান্না আর কান্না। একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেয়ার নেই যেন। এ দৃশ্য নড়াইল শহরের ভওয়াখালী এবং আশ্রম সড়ক এলাকার।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল যশোরের নওয়াপাড়া রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত নড়াইল শহরের ভওয়াখালী এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী হিরক   ভূঁইয়াসহ   (৩৫) পরিবারের তিন সদস্য এবং তার (হিরক) বন্ধু নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। কাঁদছেন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীসহ সবাই। নিহতদের বাড়িতে শনিবার সকাল থেকে সবাই ভিড় করছেন প্রিয় মুখগুলোকে এক নজর দেখার জন্য।  পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার যশোরের নওয়াপাড়া রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতরা হলেন-প্রকৌশলী হিরক ভূঁইয়া, তার বোন শিল্পী বেগম (৪২) ও ভাতিজি রাইসা (৭) এবং বন্ধু আশরাফুল আলম (৩৪)। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হিরকের স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুকন্যা খুলনায় চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে হিরকের স্ত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন। নিহত হিরক শহরের ভওয়াখালী এলাকার সানাউল্লাহ ভূঁইয়ার ছেলে এবং আশরাফুলের বাড়ি আশ্রম সড়ক এলাকায়।  এদিকে তিন বছরের ব্যবধানে হিরকের বাবা-মা ও দুই ভাই রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন শুধু হিরকের পিতৃকুলে বড় বোন শাহিন   জীবিত   রইলেন। হিরক তাদের পরিবারের একমাত্র   উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। নিহত হিরকের ভাগ্নি মীম জানান, তার মামা নড়াইল থেকে নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে পরিবারসহ খুলনায় ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রেনের ধাক্কায় তাদের প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। হিরক ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে আশরাফুলকে দক্ষিণ নড়াইল কবরস্থানে এবং বিকেলে হিরকসহ তার বোন ও ভাতিজিকে আলাদাতপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অপরদিকে নড়াইল সদরের হবখালী ইউনিয়নের সুবুদ্ধিডাঙ্গা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইজিবাইক চালক তপুর পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ। গত শুক্রবার  সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা  ঘটে।  নিহত তপু নড়াইল শহর  সংলগ্ন সীমাখালি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। দু’টি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।