যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন শেষ দিনের প্রচারণায় গণজোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের প্রচারণা রোববার রাতে শেষ হয়েছে। সকাল থেকে মধ্যে রাত অবধি শেষ দিনের প্রচারণায় মুখর সদর উপজেলার শহর থেকে গ্রামের অলিগলি। মঙ্গলবার সকাল ৯ থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে জেলা নির্বাচন কমিশন।

স্মার্ট উপজেলার গড়ার অঙ্গীকার করে নৌকায় ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুর জাহান ইসলাম নীরা। এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নূর উন নবী। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূরজাহান ইসলাম নীরা এবং তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী দলে দলে বিভক্ত হয়ে ইউনিয়নে ইউনিয়নে দিন ব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছেন শেষ দিনের মতো। এদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ, সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহামুদ হাসান বিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু, জেলা যুবমহিলালীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালীসহ ইউপি চেয়ারম্যানগন  এই প্রচারণায় অংশ নেন।

বিভিন্ন পথসভায়  আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন,  উন্নয়ন এবং অগ্রগতির মার্কা ‘নৌকা’। সদর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ২০ অক্টোবরের নির্বাচনে  প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা মনোনিত প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। নেতৃবৃন্দ ২০ অক্টোবরের নির্বাচনে  নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে সকলের প্রতি আহবান জানান।

বিকেলে শহরের বকুলতলায় জেলা যুবশ্রমিক লীগের উদ্যোগে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের আহবায়ক কেএম কামুজ্জামা শামীম। সদস্য সচিব ইউসুপ শিকদারের পরিচালনায় এই সভায় বক্তব্য রাখেন প্রার্থী নূরজাহান ইসলাম নীরা,শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ, সাধারন সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আসাদ্জুামান বাবলু,  জেলা যুব শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির উজ্জলসহ জেলা শ্রমিকলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।  একই দিন দুপুরে জেলা পুস্তুক ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে শহরের বকুলতলা, মুসলিম একাডেমীর এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারপ্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান, পৌর কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক  আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

সন্ধ্যায় যশোর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ন্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের পিটিআই মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর পৌর সভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদর রেন্টু। বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আসাদ্জ্জুামান আসাদ, কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. মোশারফ হোসেন, জেলা যুব লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ইমাম বাবলু।

বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবী, দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে দড়াটানা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, স্বর্ণপট্টি, চৌরাস্তা হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে তারা  প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। হামলা ভাঙচুরে প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। গণসংযোগ ও প্রতিবাদ সামবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম প্রমুখ।

১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২৪ জন ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে ১৭৫টি কেন্দ্রে। ভোট কেন্দ্রে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইটিং অফিসার ও ১ হাজার ১৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবে। এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ১৫শ’ পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করবে।