যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল রেডিওলজিস্ট অসুস্থ তাই আল্ট্রাসনো বন্ধ

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল অসুস্থ থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ কার্যক্রম চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রেডিওলজিস্ট হিসেবে মাত্র একজন চিকিৎসকের পদ থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। এতে করে দূরদূরন্ত থেকে আসা রোগীরা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি এই হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে ১ টি। এই পদে কর্মরত আছেন  ডা. সাজ্জাদ কামাল। রোববার রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যে কারণে আল্ট্রাসনোগ্রাফি আপাতত বন্ধ রয়েছে। সোমবার আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় ছিল অন্য দিনের মতই। কিন্তু তালাবদ্ধ দরজায় লেখা ‘ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন তাই আল্ট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ’ ফিরে যান সবাই। ঝিকরগাছা থেকে আসা রোগী শাহনাজ জানান, সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম আল্ট্রাসনো করার জন্য। কিন্তু এসে জানতে পারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই ১ হাজার টাকা ব্যয় করে বেসরকারি একটি ক্লিনিক থেকে আল্ট্রাসনো করাতে বাধ্য হয়েছি। অথচ একই আল্ট্রাসনো সরকারি হাসপাতালে করা হলে খরচ হতো ২শ ২০ টাকা। বাঘারপাড়া থেকে আসা রিজিয়া খাতুন জানান, এখানে আসার পর জানতে পারলাম আল্ট্রাসনো কার্যক্রম বন্ধ।

ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক থেকে আল্ট্রাসনো করার মতো অর্থ কাছে নেই। তাই আল্ট্রাসনো করাতে ব্যর্থ হয়েছি। আরেক একদিন আসতে হবে। রোগী পারভিনা আক্তার, গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান, সালমা আক্তারসহ অনেকে জানান, একজন চিকিৎসক অসুস্থ থাকার কারণে সরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি মোটেও সন্তোষজনক না। বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিৎ।

সূত্র জানায়, বিগত দিনে ডা. সাজ্জাদ কামাল অসুস্থ ও কোনো কারণে ছুটিতে থাকলে বিকল্প উপায়ে ( ভাড়াটিয়া চিকিৎসক ) আল্ট্রাসনো কার্যক্রম চালু রাখা হতো। কিন্তু এবার অজ্ঞাত কারণে সেদিকটা ভাবছেন না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, রেডিওলজিস্ট ডা. সাজ্জাদ কামালের হঠাৎ করে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই পদে আর কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে আল্ট্রাসনো বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি সুস্থ না হলে আল্ট্রাসনো কার্যক্রম চালুর বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, তাকে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলাফলে করোনভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হলে অন্য কোনোভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম চালু করার  বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।