রাজগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে  পিকআপভ্যানসহ চারজন আটক

জসিম, রাজগঞ্জ: মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে একটি পিকআপভ্যানসহ চারজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন জনগণ।

রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার রাজগঞ্জের কোমলপুর বাজারের নৈশপ্রহরীরা তাদের আটক করে। এরপর চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ধোলাই দিয়ে রাতেই তাদের পুলিশে সোপর্দ করে।

আটক চারজনের মধ্যে ১৩-১৪ বছরের এক কিশোর রয়েছে। তার নাম জানা যায়নি।

বাকি তিনজন হলো বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লগপুর গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে রিকু হোসেন (৩০), একই উপজেলার মামকাটি গ্রামের মোহাম্মদ শেখের ছেলে জামাল হোসেন (৩২) ও রামপাল উপজেলার কোমলা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (৩২)। আটক চারজনকে মণিরামপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি রাজগঞ্জে গরুচোরের উৎপাত বেড়েছে। গত একমাসে রাজগঞ্জের কোমলপুর, হানুয়ার, দোঁদাড়িয়া, মনোহরপুর, শাহাপুর-হায়াতপুর এলাকায় ২০-২৫টি গরুচুরি হয়েছে। যার মধ্যে কোমলপুর গ্রামের আটটি গরু রয়েছে। নিরাপত্তা না পেয়ে কয়েকদিন ধরে লোকজন রাত জেগে পাহারা শুরু করেছেন। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একটি পিকআপভ্যান (খুলনা মেট্রো-ন-১১-০৮১৪) কোমলপুর বাজার পার হওয়ার সময় নৈশপ্রহরীরা গাড়িটি দাঁড় করিয়ে ভেতরে থাকা চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তারা জানান, পিকআপে করে মাছ নেয়ার জন্য এ এলাকায় এসেছেন। কিন্তু মাছ বহন করার ড্রাম না থাকায় তাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে গাড়ি চেক করে লম্বা দড়ি ও কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায়। একপর্যায়ে পিকআপে থাকা কিশোর গরু চুরির কথা স্বীকার করে। ওই কিশোর জানায়, মাছ বহন করার কথা বলে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে তাকে সঙ্গে নেয় বাকিরা। পরে মাছ বহনের পরিবর্তে গত একমাস ধরে তাদের সঙ্গে সে গরু চুরির কাজ করছে। এরপর বাকিদের ধরে মারপিট করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

ঝাঁপা ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই ওয়াসিম আকরাম বলেন, লোকজন পিকআপসহ চারজনকে ধরে আমাদের খবর দিয়েছে। রাতেই তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।