যশোর সদরে ভোট উৎসব

মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর সদর উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর।  ভোটারদের ছিল দীর্ঘ লাইন। কোথাও ঘটেনি অপ্রীতিকর ঘটনা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর ভোট দেন ভোটাররা। সকালে তুলনায় দুপুরের পরে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে বিএনপির প্রার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করে রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসাররা। বিরামপুরের শিলা রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন লিপি খাতুন। নিজের ভোট দিতে পেরে বেজায় খুশি তিনি। একই কথা জানান শিপালী বেগম। উপশহর বিব্লক খালপাড়ের সালমা বেগম জানান, ভোট সুন্দর হচ্ছে। কোনো ঝামেলা নেই । ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মাহমুদুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন বৃদ্ধ নিজাম উদ্দীন। তিনি জানান ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রয়েছে। আমি কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিয়ে এলাম। একই কথা জানান কাজীপাড়ার সেবা সংঘ বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা পারুল বেগমসহ আরো অনেক । উপশহর বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আরজান আলী জানান কেন্দ্রে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। সকালে ্র ব্যালট পেপার আসায় কোনো ঝুঁকি ছিল না।  শিলা রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কের্ন্দের প্রিজাইডিং অফিসার প্রভাষক আসাদুজ্জামান জানান ভোট কেন্দ্রে কোন বিশৃংঙ্খলা হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা  তাদের ভোট দিয়েছেন। ঘোপ জেল রোডের বিএড কলেজে ভোট দিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন যশোর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৬,কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর জাহান ইসলাম নীরা, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মমাহমুদ হাসান বিপু। পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট দেন যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেছেন সদর উপজেলার উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষ জনক। বিরোধী দল বিএনপির স্বভাব নালিশ করা। একারণে তারা বলছে ভোট ভালো হয়নি।

বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর উন নবী বলেছেন ‘ভোট নিরপেক্ষ হয়নি। ভোটরা সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সরকারি দলের লোকজন কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়েছে। অনেক কেন্দ্রে কর্মীদের মারধর করেছে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও  নিরপেক্ষ হতো,তাহলে আমিই জয়লাভ করতাম।’