কলারোয়ায় বড় ভাই, ভাবি, ভাতিজা ও ভাতিজির ‘হত্যাকারী’ ছোট ভাই রায়হানুল

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খলিসা গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে সিআইডি পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করেছে নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম।

পারিবারিক বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে বড় ভাই, ভাবিসহ ভাতিজা-ভাতিজিকে হত্যা করে সে। উদ্ধার হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি। জিজ্ঞাসাবাদে রায়হানুল জানিয়েছে, ‘শয়তান আমার ওপর ভর করেছিল; তাই আমি এটা করেছি।’

বুধবার বিকেল ৫টায় সিআইডি সাতক্ষীরা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডির খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক।

তিনি জানান, সন্দেহজনক হিসেবে নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার দোষ স্বীকার করে ও ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। সে বেকার ছিল। কোনো কাজ কর্ম করত না। তাই তার ভাবি সাবিনা খাতুন প্রতিনিয়ত খাবারের খোটা দিত। সেই ক্ষোভের জায়গা থেকে ক্ষুদ্ধ হয়ে ভাবিকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাতে কোমল পানির সাথে ঘুমের ওষুধ ডিসোপিন মিশিয়ে ভাবি, ভাতিজা ও ভাইজিকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। এরপর রায়হান রাত ১ টা পর্যন্ত টিভিতে খেলা দেখছিল।  বড় ভাই শাহিনুর রাত একটার দিকে ঘের থেকে এসে কারেন্ট বিল বেশি উঠছে বলে বকাবকি করলে তাকেও মেরে ফেলবে বলে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাইকেও কোমল পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। রাত তিনটার দিকে ছাদ দিয়ে ভাইয়ের ঘরে ঢুকে প্রথমে ভাই শাহিনুরের দুই পা বেঁধে ধারাল চাপাতি দিয়ে গলা কেটে খুন করে। পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তার ভাবিকেও গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় ভাবির গোঙানোর শব্দে ভাতিজা সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানা জেগে উঠে, তারা খুনের ঘটনা দেখে ফেললে তাদেরকেও গলা কেটে হত্যা করে রায়হানুল ইসলাম। পরে খুনের ঘটনায় ব্যবহারিত চাপাতি বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে দিয়ে রক্তমাখা তোয়ালে পানিতে ধুয়ে গোসল করে ফেলে।

প্রেসব্রিফিং এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সিআইডি’র পুলিশের এসপি আনিছুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

প্রেসব্রিফিং এ তিনি আরো জানান, হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৮), আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল মালেক (৩৫) ও একই গ্রামের আসাদুল ইসলাম (২৭)কে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ফোর মার্ডারের সাথে তাদের মধ্যে কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না তার জন্য তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ১৫ অক্টোবর ভোরে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে মৎস্য হ্যাচারী মালিক শাহিনুর, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ সময় জীবনে বেঁচে যায় তাদের চার মাসের শিশু কন্যা মারিয়া সুলতানা।