তালবাড়িয়ায় পরকীয়ার জেরে দুই  সন্তানের জনককে হত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়ায় পরকীয়ার জেরে দুই সন্তানের জনককে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বুধবার রাত ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। আহতের নাম আলী হোসেন ওরফে সবুজ (৩৪)। তিনি তালবাড়িয়া গ্রামের ঈদগাঁহ মোড়ের আলী আকবারের ছেলে। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে মা রোকেয়া বেগমও মারপিটের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে আহত সবুজ ও হামলাকারী পক্ষ ভিন্ন দাবি করেছেন।

আলী হোসেন ওরফে সবুজ জানিয়েছেন, তালবাড়িয়া গ্রামের শামীমের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী নিলা খাতুনের সাথে বিগত দিনে আমার পরকীয়া ছিলো। এখন আমি তার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করেছি। কোনো কথাও বলি না। ঘটনার রাতে আমি মোড়ের দোকান থেকে চা পান করে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন নীলা আমাকে ফোন দিয়ে কোথায় আছি জানতে চায়। তখন বলি আমি বাঁশ বাগানের পাশের রাস্তার ওপর। এসময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নীলা তার স্বামী শামীম ,শ্বশুর তফসের মোল্লা ও দেবর শাহিনসহ কয়েক আমাকে নীলার ঘরের মধ্যে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে বেধড়ক মারপিট করার পর জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আমি হাসুয়া ধরে ফেলার কারণে ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে একজন হাসুয়া দিয়ে আমার বাম হাতে কোপ দেয়। আহতের মা রোকেয়া বেগম জানান, খবর পেয়ে ছেলেকে রক্ষা করার জন্য আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। এদিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নীলা খাতুন জানান, সবুজের সাথে আমার ৬ বছর আগে পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। আমাকে মিথ্যা বলে নিয়ে গিয়ে তিনদিন শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এই ঘটনায় মামলা করার পর সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মীমাংসা হয়। এখন আমি সম্পর্ক রাখতে রাজি না হওয়ায় সবুজ আমার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয়। বুধবার রাতে সবুজ ঘরে ঢুকে আমাকে জাপটে ধরে। এসময় আমি হাসুয়া দিয়ে তাকে কোপ দিয়েছি। হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক বজলুর রশিদ টুলু জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় আহত সবুজের অবস্থা  গুরুতর।

তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ স্বপন জানিয়েছেন, বিগত দিনে সবুজের সাথে নীলার পরকীয়া ছিলো। এ ঘটনার জের ধরে সবুজ জখম হয়েছেন। তাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা শিকার করেছে নীলা। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।