দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদক : শারদীয় দুর্গোৎসবে শঙ্খ ও উলুধ্বণি, ধূপের গন্ধ, পঞ্চপ্রদীপের আলো আর জয় ঢাকের তালে শাস্ত্রমতে নানা মাঙ্গলিক আচারানুষ্ঠানে বুধবার সন্ধ্যায় মহাষষ্ঠীতিথীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে বোধনের মঙ্গল ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সার্বজনীন উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মন্দিরে ধ্বণিত হয় ‘রূপং দেহি, যশ দেহি, জয়ং দেহি, দিশো দেহি।’

বৃহস্পতিবার সকালে দেবীর ষষ্ট্যাদী কল্পারম্ভ পূজার পর সায়ংকালে বিকেল ৫টায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। চন্ডীস্ত্রোতে মুখরিত হবে মন্দির অঙ্গন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।  বৈশ্বিক মহামারী করোনা দুর্যোগের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা মেনে  এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আহবান জানানো হয় সম্মেলনে। পাশাপাশি সার্বিক প্রস্তুতি পূজার সংখ্যাসহ অন্যন্যা বিষয় উপস্থাপন করা হয় লিখিত বক্তব্যে।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বক্তব্য রাখেন সভাপতি অসীম কুন্ডু। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সহ সভাপতি বিষ্ণু সাহা, দীপক রায়, কোষাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দে, সাংগঠনিক সম্পাদক বৈদ্যনাথ দাস, সদর উপজেলা সভাপতি দুলাল সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন ভাস্কর, জেলা কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস, সদস্য সুকুমার চক্রবর্তী ও সনৎ সাহা।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ছয়শ’২৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় একশ’২৮টি, ঝিকরগাছায় ৪৪টি, শার্শায় ২৬, চৌগাছায় ৩৯, অভয়নগরে একশ’২২, মণিরামপুরে ৯৩, বাঘারপাড়ায় ৮১ এবং কেশবপুরে ৯১টি পূজা

অনুষ্ঠিত হবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন , পূজা পরিষদ এবং পুলিশ প্রশাসন বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তত্ত্বাবধানের জন্য জেলা পূজা পরিষদের কার্যালয়  লালদিঘী পুকুর পাড়ের  শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দিরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, ও পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ নির্বাহীবৃন্দ, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে পূজা মন্দির পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে আরও জানানো হয় প্রতিবারের মতো এবারও লালদিঘীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এবারের প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শোভাযাত্রা এবং বিসর্জন স্থল লালদীঘি এলাকায় সকল প্রকার অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়েছে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু বলেন, যশোরসহ সারাদেশেই এবারের শারদোৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে। জৌলুসপূর্ণ আলোকসজ্জা, মন্ডপের সাজসজ্জা, থিম, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা, সাউন্ড সিস্টেম বর্জন করা হবে। পূজামন্ডপ ও বিসর্জন অনুষ্ঠানে লোকসমাগম বেশি না করার জন্য সবাইকে নিরুৎসাহিত করে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে সুরক্ষিত থাকে তার জন্য সবার প্রতি ২৬ দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম সূত্রে জানা গেছে, শ্রীশ্রীমহাসপ্তমী ২৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টায় পূজার কল্পারম্ভ। মহাষ্ঠমী ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টায় পূজারম্ভ,  সন্ধিপূজারম্ভ সকাল ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত, কুমারী পূজা সকাল ১১টায় এবং অঞ্জলি সকাল সাড়ে ১২টায়। ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজারম্ভ সকাল ৬টায়। মহাদশমী ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টায় পূজারম্ভ ও ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন, দর্পণ বিসর্জন, যাত্রামঙ্গল এবং মন্দির প্রদক্ষিণ শেষে প্রসাদ বিতরণ।

পঞ্জিকা মতে, এবার দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আসছেন দোলায় চড়ে। অর্থাৎ এবার দুর্গা দেবীর পৃথিবীলোকে আগমনের বাহন হলো দোলা। আবার দশমীর দিনও ফিরবেন গজে চেপে। শাস্ত্রজ্ঞরা মনে করেন, দেবীর দোলায় আগমন মড়কের পূর্বাভাস ও আর গজে অর্থাৎ হাতিতে চড়ে ফিরে যাওয়া; যার ফল শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।

এদিকে আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী শ্রীশ্রী দুর্গা তার চার পুত্র-কন্যা নিয়ে হিমালয় থেকে পিতৃলোকে মর্ত্যে আগমন উপলক্ষে আরাধনায় মেতে উঠেছে বাংলার সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা। আনন্দময়ীর আগমনে আনন্দে তারা উদ্বেলিত। একই সাথে দেবী বন্দনায় উদ্বেলিত যশোরের সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা।

তবে মহামারির সময় বিবেচনায় এবার উৎসবের বদলে দেবী বন্দনার জন্য শুধুমাত্র পূজা-অর্চনার ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছে।