বাগেরহাটে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে হাজার চিংড়ি ঘের ও পুকুর

# পানিবন্দী প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার, মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত>
বাগেরহাট  ও মোংলা প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্মচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গত দু’দিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিপাতে জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ভেঁসে গেছে প্রায় এক হাজার চিংড়ি ঘের (খামার) ও পুকুরের মাছ। মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। হাজার- হাজার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না খাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজও দারুর ভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের শরণখোলায় পোস্ট অফিসসহ তিন গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। আঞ্চলিক মহাসড়কের বিশাল অংশ ধসে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। ডুবে আছে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে চিংড়ি খামার ও পুকুরের মাছ। সারাদিনে রান্না হয়নি কয়েক শত পরিবারের। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা। বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের পূর্বাংশ এবং রায়েন্দা সরকারি পাইল হাই স্কুলের পশ্চিম পাশ থেকে টিএন্ডটি এলাকা, খাদ্যগুদাম এলাকা, পাঁচরাস্তা ও বান্দাঘাটা এলাকার প্রায় সহ¯্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। ওই এলাকা অবস্থিত পোস্ট অফিসের মধ্যেও পানি উঠে গেছে। এছাড়া, রায়েন্দা বাজারের পুরাতন পোস্ট অফিস এলাকা, উত্তর কদমতলা পুরো গ্রাম ও কেজি স্কুল এলাকার আরো প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা সেতুর দক্ষিণ পারের সংযোগ সড়কের দুটি পয়েন্টে ধস দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় পুরো সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই ভাবে মোড়েলগঞ্জ, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বাগেরহাট শহর, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেনা। বৃষ্টিতে নিন্ম আয়ের মানুষেরা সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান,দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, ও ফকিরহাট উপজেলার কয়েক হাজার চিংড়ি ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৎস্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে ভেসে যাওয়া চিংড়ি ঘের ও পুকুরের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে চিংড়ি ঘের ও পুকুরের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ জানা সম্ভব হবে।
মোংলা বন্দরে হারবার মাস্টার মো. ফকর উদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দরে বর্তমানে ইউরিয়া সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল এলপিজি গ্যাসসহ মোট ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হলেই জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, এই বৃষ্টিতে শীতকালিন সবজি ও মাঠে থাকা আমন ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এই বৃষ্টি আরও দুয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাঠে থাকা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বাগেরহাটে শীতকালিন সবজির মধ্যে টমেটোর আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। এখন পর্যন্ত সাতশ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে।