যশোরে যৌতুকের দাবিতে মারপিট মামলা, স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যৌতুকের দাবিতে তমা রানী মিত্র (৩২) নামে এক গৃহবধূকে মারপিট ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে যশোর কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে স্বামী ভাসুর, স্বামীর প্রেমিকাসহ ৪জনকে। পুলিশ গৃহবধূর স্বামী চন্দন মিত্রকে আটক করেছে
এরা হলো, যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মৃত ওয়াজিত মিত্রর ছেলে চন্দন মিত্র (৪৮), চন্দনের বড় ভাই বাসুদেব মিত্র, বাসুদেবের স্ত্রী রিনা মিত্র (৩৮) এবং মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইতি বেগম (৩৪)।
মণিরামপুর উপজেলার চাপাকোনা গ্রামের তপন দে’র মেয়ে তমা রানী মিত্র এজাহারে উল্লেখ করেছেন, হিন্দু ধর্মীয় বিধানমতে ১৪ বছর আগে চন্দনের সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তার ঐশি মিত্র (১২) ও চয়ন মিত্র (৪) নামে দুইটি সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে ভাসুর ও জাঁ’র কুপরামর্শে চন্দন তার ওপর নির্যাতন চালাতো। তবু দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে কষ্ট হলেও সংসার করতে থাকেন। ইতোমধ্যে ইতি নামে এক নারীর সাথে চন্দন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে প্রায় মারপিট করা হয়।
গত ৩ অক্টোবর সকাল চন্দন ব্যবসা করবে বলে পিতার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। এ সময় তার ভাসুর ও জাঁ উপস্থিত ছিলো। তিনি টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে জানালে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। তিনি মারাত্মক জখম হন। পরে তার মামা ও ছোটভাই সংবাদ পেয়ে বাড়িতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে ফের শ্বশুরবাড়িতে যান ছেলে মেয়ের কথা চিন্তা করে। কিন্তু চন্দন জানিয়ে দেয় যৌতুকের টাকা না পেলে সে সংসার করবে না। সে (চন্দন) আলাদা থাকে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই ইদ্রিসুর রহমান জানিয়েছেন, যৌতুক মামলায় চন্দনকে আটক করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।