যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আল্ট্রাসনো এখনো বন্ধ, রোগীরা চরম দুর্ভোগে


বিল্লাল হোসেন:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আল্ট্রাসনো কার্যক্রম চালু হয়নি। রেডিওলজিস্ট বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল অসুস্থ থাকায় টানা ৪ দিন রোগীদের আল্ট্রাসনো বন্ধ রয়েছে। ফলে রেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনো করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রোগীরা। আর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা নিম্মবিত্তরা। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, কার্যক্রম সচল করতে রেডিওলজিস্ট খোঁজ করা হলেও মিলছে না।
সরকারি এই হাসপাতালে আল্ট্রাসনো করে মানুষ আর্থিকভাবে অনেকটা উপকৃত হয়। কেননা এখানে পেটের একাংশের খরচ নেয়া হয় ১১০ টাকা। আর পুরো পেটের আল্ট্রাসনো করতে ব্যয় হয় মাত্র ২২০ টাকা। একই আল্ট্রাসনো বেসরকারি হাসপাতালে করতে গেলে ব্যয় হয় ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানের মান বুঝে এই টাকার কম বেশি হতে পারে। কিন্তু হাসপাতালের আল্ট্রাসনো কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে বাড়তি টাকা দিয়েই আল্ট্রাসনো করে বাড়ি ফিরছেন তারা। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গাইনী চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা। তিনি জানান, তার স্বামী অটো ভ্যান চালক। চিকিৎসকের নির্দেশনা দিলেও অর্থাভাবে আল্ট্রাসনো করতে পারেননি। কেননা হাসপাতালের আল্ট্রাসনো বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন কার্যক্রম বন্ধ। তাই বাড়তি টাকা দিয়ে আল্ট্রাসনো করাতে না পেরে বাড়ি যান। আল্ট্রাসনো বিভাগের ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, রেডিওলজিস্ট অসুস্থ থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের তালাবদ্ধ দরজায় লেখা টানিয়ে দেয়া হয়েছে ডাক্তার ছুটিতে থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ। বিকল্প উপায়ে কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, রেডিওলজিস্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল অসুস্থ থাকায় আল্ট্রাসনো কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কার্যক্রম সচল করতে রেডিওলজিস্ট খোঁজ করা হলেও মিলছে না। তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত ১ জন চিকিৎসক আছে। অধ্যক্ষ তাকে আপাতত দিতে রাজি হলে কার্যক্রম দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিকল্প উপায়ে আরেকজন বেসরকারি চিকিৎসককে ভাড়াটিয়া হিসেবে আনার চিন্তা মাথায় আছে। খুব শিগগির আল্ট্রাসনো বিভাগ সচল হবে বলে আশা তত্ত্বাবধায়কের।
উল্লেখ্য,গত ১৮ অক্টোবর রাতে হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট বিভাগের একমাত্র সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে । যে কারণে ১৯ অক্টোবর থেকে আল্ট্রাসনো কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেই হিসেবে শুক্রবার বাদে ৪ দিন রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।