দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে কুমারী  পূজা অনুষ্ঠিত, মহানবমী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস মহামারিতে যথারীতি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দেবীদুর্গার মহা অষ্টমীতে সাড়ম্বর ও উৎসব ছাড়াই প্রথাগতভাবে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। শনিবার ছিল ৫ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন মহা অষ্টমী। পূজা আরম্ভ হয় প্রত্যুষ সাড়ে ৫টায়। পূজা শেষে মন্দির ও মন্ডপগুলোতে পুরোহিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ ও অঞ্জলি প্রদান করেন। এবার সাড়ম্বর ও উৎসবে বাধ্যবাধকতা থাকায় মন্দিরগুলো ছিল দর্শনার্থী প্রায় শুন্য। আজ রোববার অসুরনাশিনী দেবীদুর্গার মহানবমী পূজা। মহা অষ্টমী পূজা আরম্ভ হয় সকাল ৬টায়। শনিবার সন্ধ্যায় সন্ধিপূজা আরম্ভ হয়ে সমাপন হয় রাত পৌনে ৮টায়।

শনিবার বেলা ১১ টায় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন যশোরে নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। দুপুর সাড়ে ১২টায় পূজা শেষে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের মাঝে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়। রামকৃষ্ণ আশ্রম যশোরের অধ্যক্ষের দাবি সারাদেশের মধ্যে একমাত্র যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন মন্দিরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে করোনার প্রার্দুভার এর পাশাপাশি দু’দিনের মুষলধারে বৃষ্টির কারণে যশোর শহর ও শহরতলির মন্দিরগুলোতে তেমন কোন দর্শনার্থীর দেখা না মিললেও দেবীর মহা অষ্টমীতে সকাল থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীর দেখা মিলেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি মন্দিরে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। তবে অন্যান্য বছরের ন্যায় অত্যন্ত কম। অধিকাংশ দর্শনার্থীর ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক। এ বিষয়ে প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপে জেলা প্রশাসন, পূজা পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় আগত দর্শনার্থীদের করোনা মহামারির সতর্কতা করা হয়। এ ছাড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনে যশোর প্রাঙ্গণে সকলের সুরক্ষায় করণীয় নানা দিক নির্দেশনার লিফলেটও দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মহা অষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেবীর মহা অষ্টমীতে দিনের শেষে প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা আরতি। এ সময় অন্যান্য দিনের থেকে বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থী লক্ষ্য করা যায়। করোনার প্রদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিরাজ করছিল শারদীয় দুর্গোৎসব।