আজ বিজয়া দশমী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস, সঙ্গে আছে জীবাণুনাশক। এতকিছু নিয়ে মন্দিরে ভীড় ছোট-বড় অনেক ভক্তের। ভীড় ঠেলে সবাই ছুটছেন মণ্ডপের দিকে। একটাই উদ্দেশ্য মায়ের অর্থাৎ দেবীদুর্গার কাছাকাছি যেয়ে দর্শন। এসব দৃশ্য যশোর শহর ও শহরতলীর পূজা মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। ৫ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার রোববার ছিল মহানবমী বিহীত পূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে দেবীর পূজা আরম্ভ হয় সকাল ৬ টায়। পূজা শেষে পুরোহিত ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ও অঞ্জলি প্রদান করেন। এ সময় ভক্তবৃন্দ অসুরনাশিনী দেবীর আশির্বাদ গ্রহণের জন্য তাঁর চরণে পুষ্প নিবেদন করেন। আজ সোমবার দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের মতো শারদীয় দুর্গোৎসব। আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় করোনার প্রাদুর্ভাবে বাধ্যবাধকতা থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সকাল থেকেই মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা দেবী দর্শনে আসতে থাকে। সন্ধ্যায় মন্দিরগুলোতে সন্ধ্যা আরতির সময় দর্শনার্থীর ভীড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এরপরও যশোর শহর ও শহরতলীর মন্দির ও ম পগুলোতে ছিল দর্শনার্থীর ভীড়। তবে দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দেবীদুর্গার দর্শন করেছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

এ দিকে করোনাকালীন দুর্গোৎসবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রোববার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পূজা পরিষদ এর জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ যশোর শহরের বিভিন্ন পূজা মন্দির ও মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা স্থানীয় পূজা পরিষদ নেতৃবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দের সাথে শারদীয় কুশল বিনিময় করেন।

আজ সোমবার অসুরনাশিনী দেবীদুর্গার দশমী বিহীত পূজা। পূজা আরম্ভ সকাল সাড়ে ৬টায় এবং সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে। পূজা শেষে সন্ধ্যায় দেবীদুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে এ বছরের মতো শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। করোনার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পুলিশ প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখবে। সব মিলিয়ে করোনার প্রাদুর্ভাবের পরও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে ছিল দুর্গোৎসবের আমেজ।