বিসর্জনে বিদায়  নিলেন দেবী দুর্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামারীর দিনে শোভাযাত্রার সেই সমারোহ এবার নেই, তারপরও তো বিজয়া দশমী; ‘দুর্গতিনাশিনী’দেবীর দেবালয়ে ফেরার দিনে ঢাকের বাদ্য আর অশ্রুভেজা ভালোবাসায় তাকে বিদায় জানালো মর্ত্যরে বাসিন্দারা।

‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে দেবী দুর্গা এক বছরের জন্য ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের শ্বশুরালয়ে’; সমাপ্তি হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের।

যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীতে  ২৫ টি প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে এই বিসর্জন পর্ব।

৫ দিনব্যাপী এ উৎসবের সোমবার ছিল শেষ দিন বিজয়া দশমী। এ দিন দেবীদুর্গার পূজা অর্চনা আরম্ভ হয় সকাল সাড়ে ৬ টায় এবং পূজা সমাপন ও দর্পন বিসর্জন হয় সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যে। যশোর শহর ও শহরতলীর মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে পুরোহিত পূজা শেষে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ এবং অঞ্জলি প্রদান করেন। এ সময় ভক্তবৃন্দ করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দেবীদুর্গার চরণে আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য পরম শ্রদ্ধায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে। সন্ধ্যায় আরত্রিকের পর হয় প্রতিমা বিসর্জন এবং ভক্তবৃন্দ শান্তিজল গ্রহণ করে। এ বছর দুর্গোৎসব শুরুর মাস আশ্বিন মাস, আশ্বিন ‘মল মাস’ তথা ‘অশুভ মাস’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় হেমন্ত ঋতুর কার্তিক মাসে এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে হিন্দু শাস্ত্রীয় মতে। কারণ মল মাসে পূজা-অর্চনা কিংবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় না।

দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার ৫ দিন পিত্রালয়ে অবস্থানের শেষ দিন গতকাল বিজয়া দশমীতে সকাল থেকেই যশোর শহরসহ সব মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে দেবী দর্শনে আসতে থাকে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থী। মন্দিরগুলোতে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে দর্শনার্থী। করোনার প্রাদুর্ভাবে জেলা প্রশাসন, পূজা পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দর্শনার্থী দেবী দর্শনে আসার নির্দেশনা থাকায় অধিকাংশ দর্শনার্থী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মন্দির ও ম পগুলোতে এসেছেন। দিনের শেষে বিকেলে প্রতিটা মন্দিরে মহিলা ভক্তবৃন্দের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তারা এ বছরের মতো দেবীদুর্গাকে বিদায় জানাতেই ভীড় করে মন্দিরে। ভক্তবৃন্দ দেবীর চরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী বছর আবারও এ মর্ত্যালোকে পিত্রালয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান। সব মিলিয়ে ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবে ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ।

এদিকে যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীতে ২৫ টি প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। এসময় তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন। এ দেশ আমাদের এই মাটি আমাদের। এখানে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারা কেউ সংখ্যালঘু না। আমরা সবাই বাঙালি, আমরা এ দেশের নাগরিক। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে সকল ধর্মের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলকে দেশ গড়ার ব্রত নিয়ে কাজ করার আহবান জানান।

এই অনুষ্ঠান পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার ও কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু, সহসভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, সাধারণ সম্পাদক যোগেশ চন্দ্র দত্ত, কোষাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দে, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি  দুলাল সমাদ্দার,সাধারণ সম্পাদক দেবেন ভাষ্করসহ পরিদের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা দুর্যোগের কারণে পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ২৬ দফা  নির্দেশনা নিয়ে এবং সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার পালিত হয় বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজা। এবার শুধুই পূজার আয়োজন ছিল।