যশোর সদরের ৬ ইউনিয়নের ১০ মৌজা পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তি

মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর সদরের ৬ ইউনিয়নের ১০টি মৌজা গেজেট সূত্রে তিন মাস আগেই পৌরসভার অন্তভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয় থেকে কোনো চিঠি আসেনি এ যুক্তিতে ইউনিয়নগুলো তাদের দখল ছাড়েনি, পৌরসভাও কোনো সেবা পৌঁছে দেয়নি। অথচ বাসিন্দাদের বাড়ি ও জমির খাজনা দিতে হচ্ছে পৌরসভার হিসেবে।  পূর্বের চেয়ে তিনগুণ বেশি খাজনা গুনতে যেয়েই বাসিন্দারা বুঝতে পারছে তারা আর ইউনিয়নে নেই।

সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর  ওই জায়গাগুলো পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে হিসেবে খাজনা নেয়া হচ্ছে।

অবশ্য দোকান ও কারখানার ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে পৌরকর্তৃপক্ষ এখনো স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ জুলাই যশোর সদরের ৬ ইউনিয়নের ১০টি মৌজা যশোর পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ হিসেবে উপশহর ইউনিয়নের বিরামপুর ১১৩ মৌজা, শেখহাটি ১৮৫ মৌজা, কিসমত নওয়াপাড়ার ৬৯৭ মৌজা, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নওদাগ্রামের  ১ থেকে ৩৫০ মৌজা । আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গার ২৩৫ মৌজা, ফতেপুর ইউনিয়নের ঝুমঝুমপুর ৩১০ মৌজা, বালিয়াডাঙ্গা ৪৪০ মৌজা, রামনগর ইউনিয়নের রামনগর ৪৭৮ মৌজা, মুড়লী ১৬২ মৌজা, মোবারককাঠি ৩৫৫ মৌজা   ও চাঁচড়া ইউনিয়নের চাঁচড়া ৪১৩ মৌজা এখন পৌর এলাকার বর্ধিতাংশ। এরআগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম গেজেট প্রকাশ হয়। ওই গেজেটের ওপর গণশুনানী হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাইমাসে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেটের কপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ইউনিয়নে টিঠি আকারে পৌঁছানোর কথা। পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানরা সে চিঠি এখনো পায়নি। তাদের বিবেচনায় এখনো কোনো জায়গা পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পৌরসভা ইউনিয়নে প্রবেশ করেনি, ইউনিয়ন তাদের জায়গা ছেড়ে দেয়নি।

ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন গত বছরও তাদের প্রতি বাড়ির বাৎসরিক খাজনা ছিল ১০ টাকা। চলতি বছর ভূমি অফিসে নেয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। কৃষি জমির ক্ষেত্রে ২৫ বিঘার বেশি হলে খাজনা নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৬শ টাকা। গত বছর এ খাজনা ছিল অর্ধেক। কারখানা, দোকানের খাজনা ও নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। যা আগে ছিল একশ টাকা।

সহকারী কমিশনার ভুমি জাকির হোসেন জানান গ্রেজেড প্রকাশ হওয়ায় ৬ ইউনিয়নের ১০টি মৌজা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারনে পৌরসভার আইন অনুযায়ী খাজনা নেয়া শুরু হয়েছে।

যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌরসভার সীমানা বেড়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সংস্কার পুনর্বিন্যাস কমিটির অনুমোদনের পর অন্তর্ভুক্ত জায়গার দোকানপাটের খাজনা পৌরসভা নিতে পারবে। এখনও সে অনুমতি আসেনি।

উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজনীন নাহার জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অফিসিয়াল কোনো গ্রেজেড  আসেনি। এ কারণে পৌরসভার আইন অনুযায়ী জমির খাজনা নিচ্ছে ভূমি অফিস। আর দোকানের খাজনা নিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। যদি মামলা করা হয় সেক্ষেত্র জায়গা গুলো ইউনিয়নের আওতায় থাকবে।